বিয়ানীবাজারে পুলিশের খাচায় বন্দী ভুয়া মেয়র

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ॥ বিয়ানীবাজারে ভুয়া মেয়র মহিবুর রহমান শিপন (৩৫) ও তার সহযোগী ইকবাল হোসেন (২২) পুলিশের খাচায় বন্দি হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শিপন পূর্ব খাসা গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র ও ইকবাল একই গ্রামের আবুল কালামের পুত্র। সোমবার তাদেরকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি দাসগ্রামের হাবিবুর রহিমানের ব্যক্তিগত সেলফোনে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র পরিচয় দিয়ে জনৈক ব্যক্তি ফোন করেন। এ সময় ভুয়া মেয়র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হাবিবুর রহমানের জামাতা ইফতেখার আহমদ শিপন এর বাড়ীর সীমানা প্রাচীর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সরল বিশ্বাসে হাবিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। অবশিষ্ট ৫ হাজার টাকার জন্য পুনরায় ফোন করলে হাবিবুর রহমানের পুত্র ছালেহ আহমদ শাহিন রিসিভ করেন। এতে তিনি মেয়র আব্দুস শুকুরের পরিচিত কণ্ঠ তার কাছে অচেনা লাগে। এরপরও কৌশলে তিনি বাসায় এসে টাকা নেয়ার জন্য প্রতারককে আহ্বান করেন।
কিন্তু ভুয়া মেয়র বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা নিতে না এসে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, শাহিন ও তার পিতা সাথে সাথে মেয়র আব্দুস শুকুরের সাথে দেখা করে বিস্তারিত তাকে অবহিত করেন। এতে পুরো বিষয়টি প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত হয়। এরপর গত ২ মার্চ হাবিবুর রহমান বিয়ানীবাজার থানায় প্রতারক ০১৭৪৮-৬৬৫৪০৬ নাম্বারের ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ভুয়া মেয়রকে আটক করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় অপরাধী সনাক্তে বিলম্ব হয়। একপর্যায়ে গত সোমবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিবুর রহমান শিপনকে (৩৫) আটক করে। এ সময় পুুুুলিশের কাছে শিপন প্রতারণার কথা স্বীকার করে তার অপর সহযোগীর নাম প্রকাশ করে। সাথে সাথে পুলিশ ইকবাল হোসেনকে (২২) আটক করে।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজালাল মুন্সী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধৃত প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open