মুক্তিযোদ্ধার কফিনে জাতীয় পতাকার বদলে বাঁশের চাঁটাই…….!

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: পাবনার বেড়া উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকার (৮২)-কে পূর্ন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধার কফিনে জাতীয় পতাকার পরিবর্তে বাঁশের চাঁটাই দিয়ে পেঁচিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও স্থানীয় সুধী সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পাবনার বেড়া উপজেলার সম্ভপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকার (৮২) গত শুক্রবার (১৮ মে) রাতে ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ ৪ পুত্র ও ৫ মেয়ে রেখে যান। গত শনিবার (১৯ মে) বেড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হয়নি বলে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বেড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে কোন প্রকার জাতীয় পতাকা দিয়ে না মুড়িয়ে বাঁশের চাঁটাই দিয়ে মুড়িয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে।

মরহুমের ছেলে মিলন হোসেন অভিযোগ করেন, আমার বাবা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তার ভারত এবং বাংলাদেশের দু’টি সনদপত্র আছে। বেড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ইসহাক আলী ইচ্ছাকৃতভাবে আমার বাবাকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেননি। তিনি গোটা মুক্তিযোদ্ধাদের অমর্যাদা করেছেন। আমি তার বিচার চাই।

মিলন আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যাপারে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনবার ফোন দিয়ে জানতে চাই যে গার্ড অব অনার দেওয়ার সব কিছু ঠিক আছে কি না। জবাবে ইউএনও বলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল সব ব্যবস্থা করেছে। আপনি চিন্তা করবেন না সব কিছু ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তবে র্পূণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হলো না।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ইসহাক আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়া হয়েছে। আর জাতীয় পতাকা না মোড়ানোর বিষয়টি হলো ওইদিন প্রচন্ড গরম ছিল, তাই সবার সিদ্ধান্তে মরহুম মুক্তিযোদ্ধার শরীরে জাতীয় পতাকা মোড়ানো হয়নি।

এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গার্ড অব অনার দেয়ার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি আমার জানা নাই।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহবুব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টি নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত ভুল। জাতীয় পতাকা মোড়ানোর বিষয়টি উপস্থিত সকলের দৃষ্টি এগিয়ে গেছে। গার্ড অব অনার দেয়ার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। স্বীকার করছি, এটা আমার ভুল হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা মুক্তিযোদ্ধ সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল বাতেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় পতাকা মোড়ানো ছাড়া গার্ড অব অনার-ই তো হবে না। তাহলে একজন মুক্তিযোদ্ধা কিভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেলেন বুঝলাম না। একজন বা দু’জনের নজরে পড়েনি, তাই বলে জানাজায় উপস্থিত কারোরই কি নজরে এলো না? এ ভুল ক্ষমাযোগ্য নয়। আমি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিনকে গার্ড অব অনার দেয়ার সময় তার কফিনে জাতীয় পতাকা না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open