চুনারুঘাটে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিত, ইজ্জতের মূল্য ২০ হাজার টাকা…….!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ২০ হাজার টাকায় রফার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের পর ২০ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করা হয়। এরপর মেয়েটির অবস্থা খারাপ হলে গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। রাতেই শিশুর পিতা বাদী হয়ে ধর্ষক উজ্জলকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট পৌর এলাকার নতুন বাজার প্রকাশিত পীরের বাজারে আশ্রায়ন কেন্দ্রে থাকে এই ছাত্রীর পরিবার। পিতামাতা দরিদ্র হওয়ায় মেয়েকে বাসস্থানে রেখে তারা গত ২ মে হাওর এলাকায় চলে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে একই এলাকার মৃত শিরু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩৭) ওইদিন রাতে মেয়ের ঘরে প্রবেশ করে তাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়লে উজ্জ্বল মিয়া তাকে ধর্ষণ করে। এভাবে পরপর দুইদিন ধর্ষণের কারণে রক্তকরণে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এই খবর পেয়ে মা-বাবাও বাসস্থানে চলে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় রফাদফা করেন। কিন্তু মেয়েটির চিকিৎসা না হওয়ায় সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার সকালে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সংগঠক অন্নিকা দাশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে যান। এই খবর জানতে পেরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সংগঠক অন্নিকা দাশ জানান, ব্র্যাকের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। মেয়েটিকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। কারণ উজ্জ্বল মিয়া একজন বখাটে প্রকৃতির লোক। সে এর আগে তিনটি বিয়ে করেছে। দুই বউ তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তিনি আরো জানান, মেয়েটির চিকিৎসা এবং আইনী সহায়তার দায়িত্ব নিয়েছে ব্র্যাক।

চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার কাজল মিয়া জানান, মেয়ের পরিবার দরিদ্র। মামলা দিয়ে তারা কোনো ফায়দা পাবে না। তাই মেয়ের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমিররুজ্জামান জানান, পুলিশ শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ বিষয়ে রাতে শিশুর পিতা বাদী হয়ে উজ্জলকে প্রধান আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open