বিনা নোটিশে নিরাপত্তা কর্মীদের চাকুরিচ্যুত করছে শেভরণ……..

শেভরণ বাংলাদেশ সিলেটে নিরাপত্তা কর্মীদের বিনা নোটিশে চাকুরিচ্যুত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন চাকুরিচ্যুত নিরাপত্তা কর্মীরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর মো. জুবের আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নিরাপত্তা কর্মীদের শেভরণ বাংলাদেশ কোম্পানীতে অন্তর্ভুক্ত করা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিলেও তারা দেখছি দেখবো বলে দিন পার করতে থাকেন। বছরের পর বছর বিষয়টি ঝুলন্ত থাকার পর ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর লাক্কাতুড়ায় শেভরণেল মূল ফটকের সামনে ১১ দফ দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ মাননবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল পাঁচ ভাগ হারে বকেয়া বাৎসরিক মোনাফা আদায়, চাকুরি স্থায়ীকরণ, বাৎসরকি বেতন বৃদ্ধি, কল্যাণ তহবিল সংযুক্তকরণ, ঝুকিভাতা সংযুক্তিকরণ, বাসস্থান ও যাতায়াত ভাতা সংযুক্তিকরণ, কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে বৈষম্য নীতি দূরিকরণসহ ইত্যাদি। শেভরণ দাবিগুলো মেনে না নেওয়ায় ২২১ জন কর্মী শ্রম আদালতের স্মরণাপন্ন হন। আদালত শুনানী শেষে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২২১ জনের কাউকে বদলি বা চাকুরিচ্যুত না করার জন্য এমনকি কোম্পানী কারো কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না মর্মে নির্দেশনা জারি করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে শেভরণ কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে গেলে ২০১৭ সালের ৭ জুলাই আদেশটি স্থগিত করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা কর্মীরা উচ্চ আদালতে আবেদন করলে ১২ অক্টোবর স্থগিতাদেশটি প্রত্যাহার করা হয়। পরে আবারও স্থগিতাদেশটি পুনর্বহালের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। আদালতে বিষয়টি চলমান থাকা অবস্থায় শেভরণ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই চাকুরি থেকে ছাটাই শুরু করেছে। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা রাস্তার বসায় উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, কর্মীদের ছাটাইর পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করছেন শেভরণ বাংলাদেশের বর্তমান সিকিউরিটি ডাইরেক্টর মেজর (অব.) হাসনাইন চৌধুরী, ফিল্ড সিকিউরিটি ম্যানেজার রাজিউল হাসান, মো. আলী ইউসুফ, মমিনুল হকসহ অন্যান্য ফিল্ড সিকিউরিটি ম্যানেজারগণ। এ পর্যন্ত ২১ জনকে তারা চাকুরিচ্যুত করেছেন। অথচ একটি সুন্দর স্বচ্ছল জীবনের আশায় ১৮ থেকে ২০ বছর এ কোম্পানীতে নিরাপত্তা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাকুরিচ্যুতদের পনুর্বহাল, ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং আদালতে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর কাউকে যাতে চাকুরিচ্যুত করা না হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ, শেভরণ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট অনুরোধ জানানো হয়। সিকিউরিটি এসাইনমেন্ট অফিসার মামুন আহমেদ খানসহ চাকুরিচ্যুত নিরাপত্তা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। – বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open