বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন শহীদ পরিবার…….!

সুরমা টাইমস ডেস্ক::    বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দ দেয়া বাসা থেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সরকারি কর্মচারী মহিউদ্দিন হায়দারের পরিবারকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতর উচ্ছেদের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শহীদ পরিবারকে আগাম কোনো কিছু না জানিয়েই আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে উচ্ছেদের সব রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে অধিদফতর।

১৯৭৩ সাল থেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসা পরিবারটিকে আজই (সোমবার) বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন শহীদ পরিবারটির সদস্যরা।

এ ব্যাপারে মহিউদ্দিন হায়দারের স্ত্রী খুরশিদা হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত গোপনে রিট খারিজ করে নেয়া হয়েছে। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হুমকি ও চাপ দিয়ে ৪৫ বছরের ঠিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে দুর্দশার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন শহীদ মহিউদ্দিনের এক ছেলে সাহেদ সদরুদ্দিন। www.facebook.com/shahedccr9

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার আম্মা মুক্তিযুদ্ধে একজন শহীদের স্ত্রী। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু উল্লেখিত মর্যাদায় আম্মাকে তার ২ সন্তানসহ বসবাস কল্পে ঢাকার আজিমপুরে একটি সরকারি বাসা আমরণ থাকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ১৯৭২ এ মন্ত্রিসভায় গৃহীত যে সিদ্ধান্ত বলে ওই বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তাতে পরিষ্কার বলা আছে- সরকার কোনো বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে এই পরিবারকে এই বাসা থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না।’

‘কিন্তু বাস্তবতা এই যে, আগামী পড়শু সোমবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকি ও চাপের মুখে একরাশ অপমান নিয়ে বিগত ৪৫ বছরের ঠিকানা থেকে আম্মাকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। আমার আম্মার শেষ অনুরোধ হিসেবে গণপূর্তের যুগ্ম সচিব মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘এত অল্প সময়ের নোটিশে আমি কীভাবে বাসা খুঁজে পাবো? আমাকে সময়টা এক্সটানশন করে দিন। উত্তরে ওই অফিসার বলেছেন, ‘কিছু খুঁজে না পেলে গাছ তলায় গিয়ে থাকেন।

খুরশিদা হায়দার জানান, ‘১৯৭৩ সালে শহীদ পরিবার হিসেবে আজিমপুর কলোনিতে বাসাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরাদ্দ দেন। সেই থেকে তিনি পরিবার নিয়ে বাসাটিতে থাকছেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ বেতারে চাকরিও পান তিনি।

তিনি আরও জানান, চাকরি থেকে অবসরে যান ২০০৭ সালে। সেই থেকে বাসা ছাড়ার চাপ আসতে থাকে। ২০০৮ সালে বরাদ্দ বাতিল করা হয়। ওই বছর উচ্চ আদালতে রিট করে স্টে অর্ডার নিয়ে ফের বসবাস শুরু করেন।

‘এরই মধ্যে স্টে অর্ডার আমাদের অজ্ঞাতসারে বাতিল করা হয়। ফলে বাড়ি ছাড়ার জন্য সাতদিনের নোটিশ জারি করা হয়।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দিন হায়দার বাংলাদেশ বেতারের রংপুর শাখায় চাকরি করতেন। তিনি কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে শহীদ হন। স্বাধীনতার পর এই শহীদের স্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করলে তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সাহায্য দেন। এছাড়া তাকে চাকরি ও বাসা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে স্বামীর কর্মস্থল বাংলাদেশ বেতারে চাকরি ও আজিমপুর সরকারি কলোনিতে একটি বাসা বরাদ্দ পান খুরশিদা হায়দার। – জাগো নিউজ

Sharing is caring!

Loading...
Open