হয় জমি রক্ষা নয় আত্মাহুতি…….!

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মহিষখেড় হাওড় রক্ষার দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন করেছেন কৃষকরা।

বনবিভাগকে ঢাল করে বাপ দাদার আমল থেকে ভোগদখল করা কৃষি জমি ও গো চারণ ভূমিতে তথাকথিত বনায়ন করা হলে মহিষখেড় গ্রাম সংলগ্ন ২ শতাধিক কৃষক পরিবার আত্মাহুতির হুমকি দিয়েছে।

গোয়াইনঘাটে ফতেহপুর ইউনিয়নে দেশের একমাত্র সোয়াম ফরেস্ট (জলারবন) রাতারগুল যা পর্যটকদের কাছে সিলেটের সুন্দরবন নামে পরিচিত। বনবিভাগের মালিকানাধীন রাতারগুল থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পূর্বদিকের মহিষখেড় হাওড়ে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। এ হাওড়ে যেমন বোরো আবাদ হয়, তেমনি স্থানীয়দের মৎস্যজাত আমিষ চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে। নিজেদের ভাত-মাছের অধিকার ধরে রাখতে মহিষখেড় গ্রামের শত শত কৃষক রাজপথে নেমেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় কৃষক বাচাঁও, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন সমিতির উদ্যোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় থাকা কৃষকরা ভাত-মাছের অধিকার বঞ্চিত হলে স্বপরিবারে আত্মাহুতি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে কৃষক বাচাঁও, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও জাগরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এম ওয়ারিছ উদ্দিনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মানবাধিকার সোসাইটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন, প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ইসলাম আলী।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ডা. নাজিম উদ্দিন, প্যাসেফিক ক্লাব অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল হক, অ্যাডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিকী, প্যাসেফিক ক্লাব অব বাংলাদেশ গোয়াইনঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, সাব্বির হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান, আছাব উদ্দিন, আজমল আলী, ইমান আলী, বদরুল আলম, ইলিয়াছ আলী, দেলোয়ার হোসেন।

সভায় বক্তারা আরো বলেন আমরা কৃষক, কৃষিকাজ করে জীবন মান রক্ষা করি। বন বিভাগকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আমাদের কয়েকটি গ্রামের একমাত্র হাওর যেখানে বোরো ধান চাষ ও হাজার হাজার গবাদি পশুর গো-খাদ্য খেয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র স্থান। তাই এই হাওর কৃষি জমি বনায়নের নামে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অপচেষ্টা চলছে। বাপ দাদার আমল থেকে এই জায়গা আমরা ভোগ দখল করে আসছি। আমাদের কৃষি জমি যদি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরা আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত। তাই আমরা নিরূপায় হয়ে আজ আন্দোলনের প্রতীক বলে সিলেটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই মানবনন্ধন ও প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে সিলেটের সর্বস্তরের রাজনীতিক ও সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।
পরে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে গিয়ে আবারও মানববন্ধনে মিলিত হন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।–বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open