শ্রীমঙ্গলে সবজি ক্ষেত থেকে বিপন্ন বনরুই উদ্ধার……..

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি::   মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর গ্রামের শিক্ষার্থী শিমুল দাশ প্রতিদিইন ভোরে হাটতে বের হন। প্রতিদিনের মত আজ বৃহস্পতিবারও (২৬ এপ্রিল) বের হন হাঁটতে হাঁটতে চলে যান ক্ষেতের দিকে। দূর থেকে সবজি ক্ষেতের জালের মধ্যে কী একটা দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখলেন, এটি বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণী একটি বনরুই।

বুধবার (২৫ এপ্রিল) রাতে বেশ ঝড়বৃষ্টি হয় ইছবপুর গ্রামে। এর কারণেই খেতের জালে আটকে যায় এই বনরুইটি। এতে আহত হয়এই প্রাণীটি। শিমুল সেটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তার পরিচর্যা করেন।

শিমুলের বনরুই ধরার কথা জানতে পারেন শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব। তিনি গিয়ে প্রাণীটিকে নিয়ে আসেন ফাউন্ডেশনে। এখানে বিপন্ন বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়।

সজল দেব বলেন- “বনরুইয়ের মাংসকে লোকজন বিভিন্ন রোগের পথ্য বলে মনে করেন। তাই কিছু লোক সেটিকে সাবাড়ও করতে চান। তাই খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এলাকাবাসী আমাদের হাতে বনরুইটি তুলে দেন।”

সজল দেব আরও বলেন- “বনরুইটির পেছনের পা দুটিতে সামান্য সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলে শিগগিরই আবার লাউয়াছড়া বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব জানান- বনরুই বর্তমানে খুবই বিরল প্রজাতির। বনরুই একধরনের স্তন্যপায়ী সরীসৃপ বন্যপ্রাণী। ইংরেজিতে বন্যা প্রাণীকে চায়নিজ পেনগলিন বলা হয়।

সতীশ দেব আরো জানান- রুই মাছের মতো সারা শরীরে আঁশ থাকায় এটি ‘বনরুই’ নামে পরিচিত। বনরুই গহিন বনে ১০-১৫ ফুট গভীর সুড়ঙ্গ করে বসবাস করে। এরা নিশাচর ও লাজুক প্রকৃতির। গভীর রাতে খাবারের খোঁজে সুড়ঙ্গ থেকে বাইরে বেরোয়। আবার ভোরের আগেই সুড়ঙ্গে ঢুকে যায়। পিঁপড়া, পিঁপড়ার ডিম ও উইপোকা বনরুইয়ের প্রধান খাবার। বনরুই বছরে একবার বাচ্চা দেয়। এর পায়ের নখ ও পাতা খুবই শক্তিশালী। এরা রাতে দ্রুত চলাচল করতে পারে।

Sharing is caring!

Loading...
Open