চাকুরির আশ্বাসে নিজের কলঙ্ক ঢাকলেন সেই ভিসি……..

সুরমা টাইমস ডেস্কঃঃ     গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চাকরি দেয়ার কথা বলে দেননি। এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে স্যারের বিরুদ্ধে এসব কথা বলেছি। আসলে স্যার খুব ভালো মানুষ। আমাকে চাকরি দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আমি আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করছি।

আজ মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জের প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কথাগুলো বলেছেন আফরিদা খানম ঝিলিক নামের এক নারী। এর আগে সোমবার তিনি এক কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন-আমার সন্তানের পিতা এই ভিসি।

ঝিলিক দাবি করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন চাকরি দেয়ার কথা বলে তাকে বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতন করেন। সেইসঙ্গে ভালোবাসার ছলনার প্রলুব্ধ করে দিনের পর দিন ভিসির বাংলোয় রেখে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করেন ভিসি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঝিলিক বলেছিলেন, আজ আমি সবকিছ ফাঁস করে দেব। খুলে দেব মানুষ নামের নরপশুর মুখোশ। আমার সন্তানের বাবা ভিসি। আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমার কাছে তোমার সব অপকর্মের প্রমাণ আছে। সবার সামনে তোমার মুখোশ খুলে দেব।

তার এই বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা করতে দেখা যায়।

মাত্র একদিনে ব্যবধানে নারীর ভোল পাল্টানোয় নতুন করে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আফরিদা খাতুনের বক্তব্যে ভিসির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আফরিদা খাতুন ঝিলিকের অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রেক্ষিতে চাকরি দেয়ার যে আশ্বাস দেয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কবি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রাণভয়ে ভীত ঝিলিকের নিরাপত্তা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার।

Sharing is caring!

Loading...
Open