নগরীতে ছাত্রলীগ কর্মী হত্যায় ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::    সিলেট নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাহত হয়ে নিহত ওমর মিয়াদ (২২) হত্যা মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

গতকাল সোমবার (২৩শে এপ্রিল) সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো এ আদেশ দেন।

এছাড়াও আদালত আলোচিত এ মামলাটিতে আর কোনও তদন্ত না দিয়ে শাহপরাণ থানা পুলিশের দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে বাদ পড়া প্রধান আসামিসহ ৬ জনকে অব্যাহতি না দিয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার এসআই প্রদীপ সরকার মিয়াদ হত্যা মামলায় ৪ জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে মর্মে আদালতে গত ২৮ মার্চ অভিযোগপত্রটি দাখিল করেছিলেন।

এদিকে, অভিযোগপত্র থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীসহ ৬ জনকে অব্যাহতি দেয়ায় আদালতে অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দেন নিহত ওমর মিয়াদের বাবা মামলার বাদী আকুল মিয়া।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আইয়ুব আলী জানান, অভিযোগপত্রের নারাজির ওপর শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়া ৬ জনকে ওই মামলায় সংযুক্ত (সেন্ট আপ) করেছেন। পাশাপাশি যে চারজনকে আগেই সেন্ট আপ করা হয়েছে তারাসহ এ মামলার ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

ওমর মিয়াদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, তোফায়েল আহমদ, উপশহর ডি ব্লকের ২৩নং রোডের ৪৪১ নং বাসার হাবিবুর রহমানের ছেলে জাকারিয়া মাহমুদ (২৭), টিলাগড়স্থ ভাঙাটিকর এলাকার ২৩ নং বাসার মৃত আখলাকুর রহমানের ছেলে রুহেল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জ নয়ানগর গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে শওকত হাসান মানিক (২৬)।

এছাড়াও এ মামলার দাখিলকৃত অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়- জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী, রাফিউল করিম মাসুম, বিয়ানীবাজারের উত্তর চক্রবাণী গ্রামের মৃত মইনুল হকের ছেলে সারোয়ান হোসেন চৌধুরী, কোতোয়ালি থানাধীন রায়নগর এলাকার মিতালি ১৩০ নং বাসার আকরাম খানের ছেলে জুবায়ের খান (২৬), ফেঞ্চুগঞ্জের শরীফগঞ্জ গ্রামের সাজ্জাদ মিয়ার ছেলে ফাহিম শাহ (২৭) এবং জকিগঞ্জের সেনাপতিরচক গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে ফখরুল ইসলাম (৩৩)।

এর আগে, গত বছরের ১৮ মার্চ ওমর মিয়াদের বাবা আকুল মিয়া শাহপরাণ থানায় রায়হান চৌধুরীকে প্রধান করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৪ জনকে অভিযুক্ত ও ৬ জনকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open