নগরীতে জোড়া খুন: রোকেয়ার প্রেমিক ইয়াবা নাজমুলের সম্পৃক্ততা খুঁজছে পিবিআই……..

বিশেষ প্রতিবেদন::    সিলেট নগরীর মীরাবাজারস্থ খারপাড়ায় মা ও ছেলে খুনের ঘটনার সঙ্গে নিহত রোকেয়ার প্রেমিক ইয়াবা ব্যাবসায়ী নাজমুলের সম্পৃক্ততা খুঁজছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। সিলেট পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম ধারণা করছেন- আলোচিত এই জোড়া খুনের ঘটনার নেপথ্যে কোনো বিশেষ মহলের যোগসূত্র থাকতে পারে।

যৌন ও মাদক ব্যবসার রেষারেষির জের ধরেই তানিয়া ও তার স্বামী মামুনকে নিয়ে কোনো পক্ষ এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

এদিকে- গতকাল বুধবার (১৮ই এপ্রিল) পিবিআই কর্মকর্তারা মিরাবাজারের খারপাড়ার এলাকার ১৫/জে বাসাটি তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। এরপর তারা তল্লাশি চালিয়ে বাসার ভেতর থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে গত মঙ্গলবার সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ পিবিআই সিলেটের কাছে আলোচিত এ মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করে।

আর তদন্তভার পেয়ে এসপি রেজার নেতৃত্বে পুলিশ দল গিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রথম দিন পিবিআই’র বিশেষ দল নিহত বিউটিশিয়ান রোকেয়া বেগমের বাসা হত্যাকাণ্ডের নানা আলামত জব্দ করেন। এ সময় বাসার ভেতর থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানিয়েছেন- পিবিআই মামলার ছায়া তদন্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে রোকেয়ার বাসায় আলোচিত তানিয়া আক্তারকে কুমিল্লা থেকে ও তার স্বামী মামুনকে সিলেট নগরী থেকে গ্রেফতার করা হয়। তানিয়া ও মামুন উভয়েই আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ নাজমুল নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

উল্লেখ্য- গত ১লা এপ্রিল মিরাবাজারের মিতালি ১৫ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রোকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বাসার ভেতর থেকে রোকেয়ার পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এর মধ্যে এ জোড়া হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তানিয়া ও মামুন। নিহত রোকেয়ার ইয়াবা সিন্ডিকেটের ডিলার নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায় গ্রেফতারকৃত নাজমুল নিজেকে রিয়েলস্টেট ব্যাবসায়ী পরিচয় দিলেও তার আসল পেশা ইয়াবার পাইকারী বিক্রয়। নাজমুলের বাড়ী শাহপরান (রঃ)থানাধীন শহরতলীর মুক্তিরচকে হলেও সে একেক সময় একেক জায়গায় বসবাস করে ইয়াবা ব্যাবসা পরিচালনা করতো,গত বছরের শেষের দিকে নাজমুল নগরীর বাগবাড়ীস্থ আলোচিত ব্যাবসায়ী রফিকুল ইসলাম ফেনুর রেষ্ট হাউস থেকে ইয়াবা ও পতিতাসহ হাতেনাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়,কিন্তু কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততায় মোটা অংঙ্কের টাকার বিনিময়ে সে ছাড়া পেয়ে যায়। তারপর থেকেই নাজমুল ঐ পুলিশ কর্মকর্তার মদদে আরো বেপোরয়াভাবে ইয়াবা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রন নিয়ে রোকেয়ার মাধ্যমে ইয়াবার জাল বিস্তার করে।বর্তমানে নাজমুল কারাগারে।–(চলবে)……..

Sharing is caring!

Loading...
Open