বিশ্বনাথে তাজ উদ্দিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, হত্যাকারী গ্রেফতার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি::      সিলেটের বিশ্বনাথে ব্যবসায়ী হত্যার ২৩দিন পর হত্যাকরী সুমন আহমদ (২৩)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের জহুর আলীর পুত্র।

আজ শুক্রবার (০৬ই এপ্রিল) ভোর বেলায় বিশ্বনাথ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে লামাকাজী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিনকে হত্যা দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের গ্রেফতারকৃত সুমনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, গ্রেফতারকৃত সুমনকে কয়েক বার বলাৎকারের চেষ্ঠার কারণে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। বিষয়টি স্বীকার করেছে সুমন। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতকে আগামীকাল শনিবার (০৭ই এপ্রিল) সকালে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত সুমনকে নিয়ে আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযানে যায়। অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানায়।

অপরদিকে, তাজ উদ্দিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করায় খুশি হয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে থানার ওসিকে মিষ্টি খাওয়ান স্থানীয় লোকজন।

গ্রেফতারকৃত সুমন আহমদ বেলা ২টায় পুলিশের আয়োজনে এক প্রেস ব্রিফিং এ বলে, কিছুদিন পূর্বে সিলেট থেকে গাড়িযোগে আসার পথে নিহত ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় হয় সুমন আহমদের। এই পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা হয়। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিন ছোট ভাই হিসেবে তাকে (সুমন) কে মেনে নেন। এর কিছু দিন পর নিহত তাজ উদ্দিন ও তার আরও দুই সহযোগী মিলে সুমনকে খারাপ কাজ করা চেষ্ঠা করেন। এরপর সে কৌশলে তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। এরপরও কয়েক বার তাকে (সুমন) বলাৎকারের চেষ্ঠা করা হয়। এতে সে (সুমন) ক্ষিপ্ত হয় ও বিরক্তিবোধ করে। এরপর সুমন ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিনকে হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহন করে। ব্যবসায়ীকে হত্যা করার জন্য সে সিলেট নগরী থেকে একটি চাকু ৬শত টাকা দিয়ে ক্রয় করে।

ঘটনার দিন সকালে তাজ উদ্দিন তাকে (সুমন) কে ফোন করে বলেন ‘আমাদের এলাকায় ওয়াজ মাহফিল হবে তুমি চলে আস’। ওই রাতে সে (সুমন) চলে আসে। এসময় তাজ উদ্দিন তাকে নদীর পাড়ে যেতে বলেন। তার কথামতো সে (সুমন) রাতে নদীর পাড়ে চলে আসে এবং তাকে খারাপ কাজ করার চেষ্ঠা করে। এসময় তাজ উদ্দিনকে সে (সুমন) চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকান্ডে সে একা ছিল বলে প্রেসবিফ্রিং এ জানায় সুমন।

প্রসঙ্গত, সিলেট সদর উপজেলার ফহেতপুর গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে তাজ উদ্দিন (৩০) বিশ্বনাথ থানাধীন এলাকার মাহতাবপুর মৎস্য আড়তের একজন ক্ষুদ্র পান দোকানদার ছিল। প্রতিদিনের মতো গত ১৩ই মার্চ দুপুরে মৎস্য আড়ৎ বাজারে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যান।

পরদিন ১৪ই মার্চ সকাল ১১টায় বিশ্বনাথের কেশবপুর গ্রামের সুরমা নদীর পশ্চিম পাড়ে আতাপুর ডর নামক স্থানে নীচু জায়গায় পানির পাশে শুকনাতে ক্ষতবিক্ষত পেট কাটা অবস্থায় তাজ উদ্দিনের লাশ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। গত ১৬ই মার্চ অজ্ঞাতনামা আসামি রেখে বিশ্বনাথ থানায় তাজ উদ্দিন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open