“বিশ্বনাথে চারটি নিষিদ্ধ পল্লীতে পুলিশের হানা, ১০জন আটক “

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশ্বনাথ :: সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার পুরাণ বাজারের গরু হাটা ও নতুন বাজারের রাজনগর রোড়স্থ নিষিদ্ধ পল্লীতে হানা দিয়ে পতিতা’সহ ১০ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল আকন্দ’র নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালনা করে অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নাগরপুর গ্রামের সুলতান মিয়া পুত্র বাদশা মিয়া (৩৬) ও বাদশা মিয়ার স্ত্রী মধুমা বেগম (৪২), সদর উপজেলার মালাইগাঁও গ্রামের রুবেল আহমদের স্ত্রী শাহেনা বেগম (২২), ময়মনসিংহের দোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাঝনগর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র জালাল মিয়া (৩৫), হবিগঞ্জের সদর উপজেলার রিচি গ্রামের জালাল মিয়ার স্ত্রী রুজি বেগম (৩২), সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার রামকৃঞ্চপুর গ্রামের মৃত আবদুল মনাফের মেয়ে কলি বেগম (২৭), ওসমানপুর গ্রামের রহিম উল্লার স্ত্রী পিয়ার বেগম (৪০), বিশ্বনাথ উপজেলার নওধার গ্রামের মৃত আহমদ আলীর কন্যা হুছনা বেগম (২০), দশঘর গ্রামের আবদুল মতলিবের স্ত্রী নিলুফা বেগম (৪৪), শ্রীপুর গ্রামের আবদুল আজিজের স্ত্রী খালেদা বেগম (৩৫)।

বিশ্বনাথ থানার এসআই মিজানুর রহমান ও বিনয় ভূষণ চক্রবর্তী জানান, উপজেলা সদরের পুরান বাজারস্থ গরু হাটা এলাকায় ওয়ারিছ খান, তার পুত্র রুহেল খান, আজাদ খান ও মেয়ের জামাই সিরাজ মিয়ার মালিকানাধিন টিনসেটের কলোনী এবং উপজেলা সদরের নতুন বাজারস্থ রাজনগর এলাকাধীন মানিক মিয়ার কলোনীতে অসামাজিক কার্যকলাপ (পতিতাবৃত্তি) চলে আসছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দিবাগত রাতে থানার ওসি স্যারদের নেতৃত্বে ওইসব এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে ৮ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের আসন্ন সম্মেলনে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রুহেল খান এবং বিশ্বনাথ থানার দুই জন দারোগার শেল্টারে গরু হাটা এলাকায় এসব অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে। তবে নেতা ও পুলিশের কাছে হয়রাণী হওয়ার ভয়ে এলাকার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেন না। বুধবার বিকেল স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি দল ওই এলাকায় অনুসন্ধানে গেলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এদিকে আটককৃতদেরকে তাড়াতাড়ি কোর্টে চালান থেকে ছাড়াতে ওয়ারিছ খান থানায় এসে বার বার পুলিশকে তাগিদ দিতে দেখা গেছে।

অসামাজিক কার্যকলাপের শেল্টার দেওয়ার প্রশ্নই আসে না দাবি করে যুবলীগ নেতা রুহেল খান বলেন, গরু হাটায় আমার বা আমার পিতার কোন কলোনী নেই। এসব কাজের সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করা হবে।

অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১০ জনকে আটকের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন- মাদক, জুয়া’সহ কোন অসামাজিক কার্যকলাপ উপজেলার কোথাও হতে দেয়া হবে না। যেখানে এধরনের ঘটনার সংবাদ পাওয়া যাবে, সাথে সাথেই সেখানেই পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open