নগরীর মীরাবাজারে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নাজমুলের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃঃ     সিলেট নগরের খারপাড়ায় মা-ছেলে খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাজমুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে শহরতলীর শাহপরাণ থানাধীন মুক্তিরচক গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল করিম মেম্বারের ছেলে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায় গ্রেফতারকৃত নাজমুল ইসলামের বাড়ী শাহপরাণ থানাধীন মুক্তিরচক গ্রামে হলেও সে থাকত সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটস্থ হোটেল ইষ্টার্ণ গেইটে,নাজমুল নিজে ইয়াবাসক্ত ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল,নগরীর বিভিন্ন জায়গাথেকে ইয়াবা ও নারীসহ দু একবার সে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছিল কিন্তু কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় সে পার পেয়ে যায়।
মঙ্গলবার (৪ঠা এপ্রিল) রাতে সিলেটের বটেশ্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল পুলিশের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়ায় তাকে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করা হলে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নগরীর মীরাবজারস্থ খারপাড়ায় বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগর ওরফে লাবনী ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকেনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার নাজমুল হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে ছাড়াও আরও কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে সে জানিয়েছে। ঘটনার সময় সে এলাকায়ই ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা শুরু হলে সে ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, পুলিশ নাজমুলের ছবি তুলে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা রাইসাকে দেখায়। এসময় রাইসা পুলিশকে জানায় ‘এই তার নাজমুল মামা।’

তবে মামলার এজহারে তার নাম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলার এজহারে গ্রেফতারকৃত নাজমুলের নাম নেই। তবে রাইসার দেওয়া তথ্যে তার নাম প্রকাশ পায়। রোকেয়া বেগমের সঙ্গে বিউটি পার্লার ব্যাবসা শুরু করার কথা বলে তার কাছ থেকে কয়েক দফা টাকা নিয়েছিল নাজমুল। এছাড়াও তাদের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে নাজমুলসহ অন্যদের যাতায়াত ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছে নারী সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরেই রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রোকনকে দীর্ঘদিনের আক্রোশের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ রোকেয়া বেগমের ব্যবহৃত কম্পিউটার পর্যবেক্ষণ করে তার এক বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে। রোকেয়া বেগমের বাসায় অপরিচিত পুরুষ ও নারীরা প্রায়ই আসা যাওয়া করত। পুলিশ এমন তথ্য স্থানীয়দের কাছ থেকে পেয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open