বিউটি হত্যা: তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি::     হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত কিশোরী বিউটিকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা শায়েস্তাগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩রা মার্চ) বিকালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। এসময় কমিটির সদস্যরা এসআই জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।

বিউটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৯শে মার্চ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন– বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা ও সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন। আজ মঙ্গলবার এ কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল।

তদন্ত কমিটির প্রধান আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বিউটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা শায়েস্তাগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেনের অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২১শে জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৪) বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল। এ ঘটনায় গত ১লা মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন।

এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ই মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

বিউটিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৭ই মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দু’জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open