“যে তারিখে বাসায় উঠেছিলেন, সেই তারিখেই লাশ হয়ে ফিরলেন”

নিজস্ব প্রতিবেদক ::  গত বছরের (১লা এপ্রিল) সিলেট নগরীর মীরাবাজারস্থ খারপাড়ায় ১৫/জি নম্বর বাসার নিচ তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন হেলাল মিয়া নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু ঠিক এক বছর পর ওই বাসার ভেতর থেকে তাঁর স্ত্রী ও ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভাড়াটিয়ার তথ্য ফরম সূত্রে এমনই জানা গেছে।

জানা গেছে, সিলেট নগরীর বারুতখানা উত্তরন ৫২ নম্বর বাসার বাসিন্দা হেলাল মিয়া ২০১৭ সালের ১লা এপ্রিল মীরাবাজারস্থ খারপাড়ায় মিতালী আবাসিক এলাকায় ১৫/জি নম্বর বাসার নিচ তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ওই ফ্ল্যাটে তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৫), ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (১৮) ও চার বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রাইসা বসবাস করত।

এর আগে তারা নগরীর রায়নগরের সোনারপাড়াস্থ রাসোস ২২ নম্বর বসবাস করত তারা। সেখানে বাসা ছোট হাওয়ার কারণে খারপাড়ায় বাসা ভাড়া নেয়। ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই তারা শান্তিপূণভাবে বসবাস করছিল সেখানে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০১৮ সালের ১লা এপ্রিল সকালে ওই বাসা থেকেই তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শুধু মাত্র মেয়ে রাইসাকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তাকেও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল দৃর্বৃত্তরা।

খুন হওয়া রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন জানান, তাদের সাথে বাসায় একটি কাজের মেয়েও থাকত। গত শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সাথে রোকেয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। গতকাল রবিবার সকালে তাদের খোঁজ নিতে মিরাবাজারস্থ বাসায় আসেন জাকির হোসেন। বাসায় এসে ভেতর থেকে তিনি তাদের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা না খোলায় তিনি বাড়ির মালিককে খবর দেন। বাড়ির মালিক ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরে প্রবেশ করে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এসময় ঘরের মধ্যে ক্রন্দনরত অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে, কাজের মেয়েকে বাসায় পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, মাসখানেক আগে থেকেই রোকেয়া তাকে জানিয়েছিলেন যে, এই বাসায় তার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এই বাসা বদলানো লাগবে।

এদিকে, গতকাল রবিবার বিকালে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তাদর লাশ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এছাড়াও দৃবৃর্ত্তদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open