নগরী থেকে মা ও ছেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, গৃহকর্মী উধাও……..

নিজস্ব প্রতিবেদক::   সিলেট নগরীর মীরাবাজারের একটি বাসা থেকে মা ও ছেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই বাসা জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে রোকেয়ার ৫ বছরের মেয়ে রাইসা বেগমকে। নগরীর ১৯নং ওয়ার্ডের খারপাড়া আবাসিক এলাকার মিতালি ১৫/জে নম্বরের তিনতলা বাড়ির নিচ তলায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেতেন রোকেয়া বেগম।

আজ রোববার (০১লা এপ্রিল) বেলা ২টায় নগরীর মীরাবাজারস্থ খরপাড়ার ‘মিতালী ১৫/জে’ নম্বর বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই বাসায় গৃহকর্মী তানিয়াকে (১৬) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন।

নিহতরা হলেন- হেলাল আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪২) তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূপম (১৬)। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে রোকেয়ার ৫ বছরের মেয়ে রাইসা বেগমকে। রূপম এবার শাহজালাল জামেয়া স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকায়। তারা ওই বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। এদিকে তার স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি তার নিজ বাড়ীতেই থাকতেন।

নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন উপস্থিত সংবাদকর্মীদের জানান, সর্বশেষ গত শুক্রবার (৩০শে মার্চ) সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি তার বোনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় আজ রোববার বোনের বাসায় আসেন। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে বোনের মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে উপরতলায় বাড়ির মালিক সালমান হোসেনকে খবর দেন। পরে স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। রোকেয়ার ভাই জাকিরের ধারণা ওইদিনই তাদের হত্যা করা হয়েছে। এজন্য মরদেহে কিছুটা পঁচন ধরেছে।
নিহতের এক আত্মীয় ফারুক আহমেদ বলেন, সিলেট শহরে রোকেয়ার একটি পার্লার আছে। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছেলে রূপন এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন- প্রায় এক বছরে আগে কে বা কারা ওই বাড়িতে ঢুকে রোকেয়াকে মারধর করছিল। পরে স্থানীয় কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় ঘটনাটি মীমাংসা হয়। পরে তারা ঘটনাটি জানতে পেরেছিলেন।
বাসার মালিক সালমান হোসেন জানান, তারা বছরখানেক আগে এই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিল। ওই নারী একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন এবং ছেলে মীরাবাজার একটি মাদ্রাসায় লেখা-পড়া করতো। বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা এ ঘটনার কিছুই টের পাননি।

এব্যাপারে কতোয়ালী মডেল থানার ওসি গৌছুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গত শুক্রবার রাতেই মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠনো হয়েছে।

তবে, কি কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকান্ডের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে কয়েকজন এ হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

ওসি আরো জানান, শিশু রাইসাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাসার কাজের মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। https://youtu.be/n-FbxDK64Mw

Sharing is caring!

Loading...
Open