কিশোরী বিউটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি::

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় কিশোরী বিউটি আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা (বানিয়াচং সার্কেল) ও সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. নাজিম উদ্দিন।

কমিটি গঠনের সত্যতা স্বীকার করে পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গত ২১শে জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৬) বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল।

এ ঘটনায় গত ১লা মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলম চানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৬ই মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে মরদেহ হাওরে ফেলে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৭ই মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ২১শে মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলম চান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইলকে আটক করে। আজ সকালে ব্রাহ্মণডোরা গ্রাম থেকে অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার খালা জহুর চান বিবি (৬০) ও খালাতো বোন ঝুমা আক্তারকে (২০) আটক করা হয়। কিন্তু মূল হোতা বাবুলকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ।

Sharing is caring!

Loading...
Open