পুলিশ চাইলে সবই পারে……..

নিজস্ব প্রতিবেদক::

রাতের আধারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সিলেট নগরীর ক্বীনব্রীজ এলাকায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মেহেদী আল সালাম খুন হয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।

গভীর রাতে ছিনতাই হওয়ার কারনে হত্যাকান্ডের কোন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলনা। তবুও বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন এসএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ-ক্রাইম) জনাব জ্যোতির্ময় সরকার। তিনি প্রমান করলেন পুলিশ চাইলে অপরাধ দমনকরা কঠিন কিছু নয়।- পুলিশ নিহত মাহিদ এর ভাড়াকৃত রিক্সাচালকে খোঁজতে থাকেন। সমস্ত জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজে পুলিশ। কোন সুরাহ্ পাচ্ছিল না। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলের একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইল ফোনে শুধুমাত্র রিক্সার একটি ছবি পায়।

পুলিশ ছবিটি পেয়ে কিছুটা আশার আলো দেখে। কল্পনায় হয়তো মেহেদির হত্যাকারীর গলায় ফাঁসীর রশী দেখছে।

সহকারী পুলিশ সুপার জাকারিয়া মুহাম্মদ বলেন-

মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে খুন হওয়া ব্যক্তির চোখ কেন খোলা থাকে তার অনেক রকম ব্যাখ্যাই দেয়া যায়।

কিন্তু এ ব্যাপারে পুলিশের ব্যাখ্যা হল:-

খুন হওয়ার পরও মৃত ব্যাক্তির লাশটি পুলিশের প্রতীক্ষায়ই চোখ খুলে তাকিয়ে থাকে। কারন, ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে পুলিশ তার লাশের কাছে পৌছানোর পর সে পুলিশের চোখে চোখ রেখে বলতে চায়- “আমাকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যে পারেন আমার খুনিকে খুজে বের করতে, প্লিজ সঠিক ভাবে ইনভেস্টিগেশন শেষ করে ন্যয় বিচারের ব্যবস্থা করুন”।।

নিহত ব্যক্তির এরকম আকুতি যদি নিজ ভার্সিটির জুনিয়র হয়, তাহলে বিষয়টা কতটা মর্মাহত করবে একজন মানুষকে। বলতে পারেন?

হয়তো নিরবে দাঁত কামড়ে কাঁদবে।

এডিসি জ্যোতির্ময় সরকার এর নেতৃত্বে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি জনাব খায়রুল ফজল ও এসআই রিপন দাস সহ প্রমুখকে নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন।

শুধুমাত্র একটি রিক্সার ছবি দিয়ে কি আদৌ মূল ঘটনা উদ্ঘাটন হবে? ভেবে দেখুন নগরীতে কতহাজার রিক্সা। তবুও পুলিশের লক্ষ্য পৌছানোর দারুণ প্রয়াস। বিভিন্ন জায়গায় রিক্সা ও চালকে খুঁজতে থাকেন।

এসএমপি’র সুদক্ষ, চৌকষ ও মেধাবী এই পুলিশ কর্মকর্তা জনাব জ্যোতির্ময় সরকার (শাবিপ্রবি’র সাবেক ছাত্র) ইতিপূর্বে অনেক ক্লু-লেস মামলা উদ্ঘাটন ও চুরী, ছিনতাই, ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধার সহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার করে ভূয়সী প্রশংসা কুঁড়িয়ে নিয়েছেন।

তাই তিনি মেহেদি হত্যা মামলার বিষয়ে হাল ছাড়তে নারাজ। অক্লান্ত পরিশ্রমের একপর্যায়ে তিনি রিক্সা ও চালককে আটক করতে সক্ষম হন। রিক্সা চালকের বাড়ী দিনাজপুর। রিক্সা চালকের দেয়া তথ্য ও বিবরণ অনুযায়ী গতরাত ১২.৩০ ঘটিকার সময় নগীরর বার্থখলা থেকে দুজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেন দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- ছিনতাইকারী- র্মীজা আতিক ও তোফায়েল মুহাম্মদ রিপন।

ছিনতাইকারী র্মীজা আতিক মেহেদি আল সালাম হত্যার কথা স্বীকার করে আদালত ১৬৪ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন।

তার ভাষ্যমতে- মূলত ছিনতাই কাজে বাধা প্রধান করার কারনে মেহেদি কে হত্যা করা হয়েছে। ছিনতাই কাজে মোট ৪জন অংশ নিয়েছিল। বাকি ২জন কে আটক করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open