“গোলাপগঞ্জে হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু”

সুরমা টাইমস ডেস্ক::      সিলেটের গোলাপগঞ্জে হাতুড়ে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারসহ গোটা এলাকায় চলছে শোকের মাতম। গত বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, গোলাপগঞ্জ থানার পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০নং উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নের বাগলা-মিররচক গ্রামের সৌদীআরব প্রবাসী খছরুল আলমের পুত্র মো. ফুয়াদ আহমদের (১২) পা কিছুদিন আগে কেটে যায়। তার মা তাকে নিয়ে বাগলা নয়াবাজারস্থ ‘হামিদ ফার্মেসী’র ফার্মাসিস্ট হাফিজ মো. খালেদকে দেখালে তিনি খাওয়ার জন্য কিছু ঔষধ দিয়েছিলেন। কিন্তু কাটা জায়গাটি শুকায়নি। সেখানে পুঁজ জমেছে দেখে আবারও তার মা তাকে খালেদের কাছে নিয়ে যান।

এইবার খালেদ তাকে ‘ট্রাক্সন’ নামক একটি ইনজেকশন পুশ করেন। সাথে সাথে ফুয়াদের বমি শুরু হলে তাকে আরও দুইটি ট্যাবলেট খাওয়ান ডাক্তার খালেদ। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ফুয়াদকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাযোগে ঢাকাদক্ষিণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তার মা ও পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্য।

খালেদও মোটর সাইকেলযোগে তাদের সাথে আসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু মাইলখানেক দুরে, মোল্লারচক গ্রামে আসার পর, সে কাউকে কিছু না জানিয়ে অন্য রাস্তায় পালিয়ে যায়।

ঢাকাদক্ষিণে ডাক্তার বাসুদেব কর্মকারের চেম্বারে উপস্থিত হলে তিনি ফুয়াদকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ লাশটি পোস্টমর্টেমের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। গত বৃহস্পতিবার বিকালে ফুয়াদের লাশটি আবার তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলে বাদআসর জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনা শুনে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ফুয়াদের বাবা সৌদীআরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। তার ৩ ছেলে ১ মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে ফুয়াদই সবার বড়। সে বাগলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে পড়ছিল।

এদিকে এলাকা ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় শোকের মাতম চলছে ফুয়াদের বাড়ি এবং গোটা এলাকায়।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, আমরা লাশটির সুরতহাল তৈরি করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়েছিলাম।  (বৃহস্পতিবার) তার পরিবার লাশটি নিয়ে দাফন করেছেন। এখনও কোন মামলা হয়নি। হলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

এদিকে এলাকাবাসীর কয়েকজনের মোবাইল ফোনে আলাপকালে জানা যায়, খালেদ একজন ভুয়া ফার্মাসিষ্ট। তার কোন লাইসেন্সই নেই। সে প্রায়ই অসহায় রোগীদের বিনা প্রয়োজনে অতিরিক্ত ঔষধ দিয়ে ভুল চিকিৎসা দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে ‘হামিদ ফার্মেসীর প্রোপাইটার’ হাফিজ  খালেদ আহমদের মোবাইলে (০১৭১০৯৪৩৬২২) বার বার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, খালেদ বাগলা-মাইজপাড়ার সিরাজ উদ্দিনের পুত্র।

Sharing is caring!

Loading...
Open