সিলেটের আলোচিত ‘আতিয়া মহলের’ মামলা তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে

বিশেষ প্রতিবেদন::      সিলেটের ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গিবিরোধী অভিযানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে আজ শনিবার (২৩শে মার্চ)। গত বছরের এই দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই অভিযানে নিহত হয় ৪ জঙ্গি। এছাড়ায় আতিয়া মহলের বাইরে জঙ্গি হামলায় র্যাহব-পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৭ জন প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় তখনই মামলা করা হয়।

মামলার পর এক বছর কেটে গেল, এখনো সূত্র খুঁজেই চলেছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযানকালে উদ্ধার আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসলেও সব সূত্র এক করতে পারছেন না তদন্ত কর্মকর্তারা।

তবে সব সূত্র মিলে গেলেই জঙ্গি আস্তানা ও হামলা রহস্যের সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ভালো খবর জানানো সম্ভব হবে।

দক্ষিণ সুরমার পাঠান পাড়াস্থ ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গি সন্দেহে অভিযান পরিচালনা করা হয় ২০১৭ সালের ২৪শে মার্চ ভোরে। বিকেলে জঙ্গিবিরোধী বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট এসে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান করলে জঙ্গিরা আস্তানার ভেতর থেকে গুলি ছোঁড়ে।

পরদিন সকালে সরকারি সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ পরিচালনা করে। এই অভিযান চলাকালে গত ২৫শে মার্চ সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের পাশে দু’দফা বোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত ও অন্তত ৪৩ জন আহত হন।

ফাইল ছবি

এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানার এসআই শিপলু দাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং এসআই সুহেল বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

মোগলাবাজার থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে মামলা দুটির। পরে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দিতে পুলিশ সদর দফতর ওই বছরের ৯ মে মোগলাবাজার থানা থেকে হস্তান্তর করে পিবিআই’কে নির্দেশ দেয়।

কিন্তু, মামলা দুটি পিবিআই’র কাছে দীর্ঘ ১১ মাস আগে হস্তান্তর করলেও কোনো অগ্রগতি নেই। মামলা দুটি পুলিশের হাতে থাকাবস্থায় ডিএনএ টেস্টের পর এক জঙ্গিকে সনাক্ত করা হয়। কিন্তু, পিবিআই’র কাছে আসার পরও বিস্ফোরক অধিদফতর থেকে জঙ্গি হামলার ব্যবহৃত ডিভাইসের রিপোর্ট ছাড়া আর কোনো সফলতা নেই।

পিবিআই তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আতিয়া মহলে অভিযান চলাকালে দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে মৌলভীবাজারের বড়হাট ও নাসিরপুরে দুটি জঙ্গি আস্তানায় নিহত দু’জন জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করে পুলিশ।

ফাইল ছবি

প্রাথমিকভাবে এই সূত্র ধরে ইন্সপেক্টর সুশীল রঞ্জনকে হত্যা মামলা ও ইন্সপেক্টর দেওয়ান আবুল হোসেনকে বিস্ফোরক আইনের মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সুশীল রঞ্জন দাস সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানায় ওসি হিসেবে বদলি হওয়ায় এ মামলা তদন্তেরও দায়িত্ব পান পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন। বর্তমানে দুটি মামলাই তিনি তদন্ত করছেন।

পিবিআই, সিলেটের এসএসপি রেজাউল হক মল্লিক বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা শিগগিরই ভালো খবর দিতে পারব।

তিনি বলেন, অভিযানে নিহতদের মধ্যে মর্জিনা ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কারও ডিএনএ সনাক্ত করা যায়নি। তবে তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।

রেজাউল হক মল্লিক বলেন, জঙ্গি আস্তানায় ব্যবহৃত ডিভাইসের রিপোর্ট বিস্ফোরক অধিদফতর থেকে পাওয়া গেছে। এর সূত্র ধরে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এখন আমরা কয়েকটা ক্যাটাগরিতে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে হামলার সঙ্গে কে ছিলেন কিংবা কোথায় থেকে বিস্ফোরকগুলো আনা হয়েছে? এছাড়া কতটা ক্ষমতা সম্পন্ন ডিভাইস ছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযান পরিচালনার সময় বাইরে যে বিস্ফোরণ ৭ জন নিহত হয়েছিলেন সে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, দুই মামলাই একই সূত্রে গাঁথা। একটি বের হলে অন্য মামলার রহস্য বের হয়ে আসবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালের ২৪শে মার্চ শুরু হওয়া অভিযান ‘অপারেশন টোয়ইলাইট’ শেষ হয় ২৮শে মার্চ। এরপর আতিয়া মহলকে বিস্ফোরকমুক্ত করতে ‘অপারেশন ক্লিয়ারিং আতিয়া মহল’ শুরু করে র্যা বের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

গত ১০ এপ্রিলই এ অভিযানের সমাপ্তি টানা হয়। এরপর ১১ই এপ্রিল ভবনের ফ্ল্যাটগুলো বাড়ির মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া নিহত চার জঙ্গির লাশ ডিএনএ টেস্ট করে বেওয়ারিশ হিসেবে মানিকপীর টিলায় দাফন করে পুলিশ।

Sharing is caring!

Loading...
Open