মৌলভীবাজারে তরুণীর ওপর বর্বর নির্যাতন…….!

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি::      সিলেটের মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এক তরুণী বর্বর নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে গতকাল বৃহস্পতিবার কুলাউড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে নিজের নিরাপত্তা ও বিচার দাবি করেন ওই তরুণী।

নির্যাতিতা তরুণী অভিযোগ করেন, মা হারা দুই বোন আর বাবাকে নিয়ে জুড়ী শহরের একটি গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। পার্শ্ববর্তী উত্তর জাঙ্গিরাই গ্রামের রহিম মিয়ার ছেলে আবু সায়েমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আবু সায়েম তাদের বাসায় প্রায়ই আসা যাওয়া করত। গত ১৭ই মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় আবু সায়েম তাদের বাসায় এলে বাসার মালিকের মেয়ে শেফা বেগম ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে গ্রাম্য মোড়ল আব্দুল জব্বারকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে আব্দুল জব্বার বাসায় এসে শেফার সহযোগিতায় মরিয়ম ও আবু সায়েমকে বেঁধে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বেদড়ক মারপিট করেন। আব্দুল জব্বারের নির্যাতনে আহত হয়ে কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানান ওই তরুণী।

তিনি আরও জানান, ওই দিন রাতে আব্দুল জব্বার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চক্রান্ত করে কাবিননামা ছাড়াই আবু সায়েমের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেন। ঘটনার দিন একটি সাদা কাগজে ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেন নির্যাতনকারী আব্দুল জব্বার।

ঘটনার পরদিন গত রোববার ওই তরুণী জুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আব্দুল জব্বার পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ও থানার দালাল হওয়ায় পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে জানান নির্যাতিতা তরুণী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল জব্বার দুম্ভোক্তি করে বলেন, মেয়েটা খারাপ। এর আগেও কয়েক জায়গায় খারাপ কাজে ধরা পড়েছে। তাই আমি মেরেছি এবং ওসি বলেছে বিয়ে পড়িয়ে দিতে।

এ ব্যাপারে জায়ফরনগর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জব্বার জানান, নির্যাতনের খবরটি ঘটনার দিন বিকালে তিনি জেনেছেন। রাতে গিয়ে মেয়েকে দেখেছেন। তবে এই মেয়েটা যে খারাপ তা তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে জুড়ী থানার ওসি মো. জালাল উদ্দিন জানান, মেয়েটারও কিছু সমস্যা আছে। অবৈধভাবে একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক করছে। স্থানীয় লোকজন বাধা দিছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এলাকাবাসী দুজনকে হাতেনাতে ধরে বিয়ে দিয়েছে। তারপরও আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখব।

Sharing is caring!

Loading...
Open