কানাইঘাটে ‘মেছার চর’ দখল নিয়ে পাথর খেকোদের উত্তোজনা! সংঘর্ষের আশঙ্কা…….

কানাইঘাট প্রতিনিধি::  লোভাছড়া পাথর মহাল এলাকায় লোভা নদীর তীরবর্তী মেছার চর দখল নিতে দীর্ঘদিন থেকে মামলার পাশাপাশি দু’টি মৌজার শক্তির প্রদর্শন চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২২শে মার্চ) সকাল থেকে মেছা মৌজার কয়েক শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে লোভা নদীর পুর্ব পাড়ে অবস্থান নেয়।

এ সময় তাদের প্রতিপক্ষ খুকুবাড়ী মৌজার লোকজনকে মারামারির জন্য দীর্ঘ সময় ডাকা হলেও তারা মাঠে যায়নি বলে বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে উভয় মৌজার পাখর খেকোদের মধ্যে যে, কোন সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, এক সময়ের অবহেলিত এ চরটি আজ যেন আলাদিনের চেরাগ। পাথর খেকোদের হিংস্র থাবায় এ এলাকার বেশ কয়েকটি মৌজায় নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে। যার কারনে এখানকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ মৌজার সীমানা নির্ধারণী জটিলতায় ভোগছেন। বিশেষ করে খুকুবাড়ী ও মেছা মৌজার লোকজন এ চরটি তাদের নিজেদের বলে পাল্টাপাল্টি দাবী করছেন। এ নিয়ে মামলাসহ মারামারিতে তারা কয়েক দফা মোকাবেলাও হয়েছেন। উভয় মৌজার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মামলা রয়েছে।

বর্তমানে এ চরের উপর মহামান্য হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এক সময়ের সবজির জন্য বিখ্যাত মেছার চরটিতে বিভিন্ন জাতের সবজির বাম্পার ফসল উৎপাদন করা হতো। এ চরের মিষ্টি কুমড়া, টমেটু, বেগুন, বরবটি, ফরাস, ফুলকপি, বাধাকপি, শালগম, শষা, ধনিয়া পাতাসহ ইত্যাদি শাক-সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে এখানকার মানুষ কয়েক লক্ষ টাকা আয় করতেন।

কিন্তু বর্তমানে পাথর খেকোদের হিংস্র থাবায় আজ আর আগের মত সেই মেছার চরে সবজির চাষ হয় না। তাই দরিদ্র এলাকাবাসী পাথর খেকোদের তান্ডব থেকে এ চরকে রক্ষার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মেছা মৌজার পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্বাস উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত তারা এলাকার শত শত মানুষ নিয়ে পাথর খেকোদের তান্ডব থেকে ঐতিহ্যবাহী এই চরটি রক্ষা করার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু খুকুবাড়ি মৌজার আবু ছিদ্দেক, ময়নুল মেম্বার, হেলাল আহমদ ও সুলেমানের সাথে কথা হলে তারা জানায়- আব্বাস মেম্বাররা সেখানে মেছার চর রক্ষার জন্য আসেনি। তারা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এ চরকে গিলে খেতে এসেছেন বলে দাবী করছেন।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল আহাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি শান্তিপুর্ণভাবে শেষ করতে উভয় পক্ষের সাথে আমাদের কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open