তাহিরপুরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন: ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

তাহিরপুর থেকে সংবাদদাতাঃ তাহিরপুরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছেন। নিহত স্ত্রীর নাম সরুফা আক্তার। তিনি চারাগাও মাইজ হাটি গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে। আর ঘাতক স্বামী মো. ফারুক মিয়া (৪০)। তিনি কলাগাও গ্রামের হাসিম মুন্সির ছেলে। উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কলাগাও গ্রামের ঘাতক স্মামীর নিজ বসত ঘরে এই ঘটনাটি ঘটে।

এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে চারাগাঁও গ্রামের নিহত পিতার বাড়িতে লোকজনের ক্রমশ ভীড় করে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্বামী ফারুক মিয়াকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাত ৪ দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সরুফার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের মৃত হাসিম মুন্সীর ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া (৪০)’র সাথে প্রায় ১৮ বছর পুর্বে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী চারাগাঁও মাইজ হাঁটি গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে সরুফা আক্তারের (৩০)’র। বিয়ের পর ফারুক ও সরুফা দম্পতির কোল জুড়ে জন্ম নেয় ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে। তারা দুজনেই জীবিকার তাগিদে গত নিজ বাড়িতে দর্জির কাজ করতেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় তুচ্চ বিষয় নিয়ে কাপড় কাটার কাঁচি (কেঞ্চি)  দিয়ে ঢিল মারলে নিহত সরুফা ডান হাতের কন্ইুর নিচে এবং তলপেটে আঘাত লাগে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আহত সরুফা কে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে না নিয়ে উপজেলার বাদাঘাট বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার এক পর্যায়ে শুক্রবার রাত ৪টার দিকে সরুফা মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর লোক জানাজানির আশংকায় অতি গোপনে শনিবার ভোরে নিহতের লাশ বাবা আবদুল মালেকের চারাগাঁও মাইজহাঁটির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় রফাদফার মাধ্যমে দাফনের জন্য। কিন্তু লাশ বাড়ি পৌছার পর পেটের ব্যথায় সরুফার মৃত্যু হয়েছে এমন কথা ছড়িয়ে দিয়ে দাফনের আয়োজন করার পুর্ব্ইে সকাল ৮টার দিকে আশে পাশের গ্রামের লোকজন আবদুল মালেকের বাড়িতে জড়ো হয়ে বাঁধ সাধলে সরুফার খুনের বিষয়টি চাউর হতে থাকে।

সংবাদ পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গ পাঠায়। তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর জানান,  এ ধরনের রোগিকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না করিয়ে গোপনে পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোটা রহস্য জনক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক স্মামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে ।

Sharing is caring!

Loading...
Open