দোয়ারায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান কাজ পুণ: শুরুর দাবিতে একাট্টা এলাকাবাসি

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান কাজ বন্ধের ঘটনায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে হাজারো কৃষক। অবিলম্বে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে হাজারো কৃষককুলের বোরো ফসল রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। না হলে আগামী বোরো মওসুমে স্বপ্নের সকল ফসল তলিয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন বোরোচাষীরা।

জানাযায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগীতায় জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নার গাঁও ইউনিয়নের দেখার হাওর অংশে ১২ কি.মি হতে সাড়ে ১৩ কি.মি পিআইসি ডি-২৮/১ এর এই বাঁধ নির্মান করা হচ্ছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারী সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( রাজস্ব) কামরুজ্জামান বাঁধ নির্মান কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। কিন্তু এর পরপরই বাঁধ নির্মান কাজে বাধাঁ দেয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় গত ২২ ফেব্রুয়ারী এলাকার শত শত কৃষক বাঁধ নির্মান কাজে প্রশাসনিক সহযোগীতা চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নিজেদের আখের গোছাতে না পেরে শত শত কৃষকের বাঁধ নির্মান স্বপ্নকে পায়ে ঠেলে দিতেই এই চক্রটি মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। হাওরে ফসল রক্ষায় বাঁধ না থাকায় বিগত দিনে এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের কাঙ্খিত বোরো ফসল ঘরে উঠাতে পারিনি। কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ১০লাখ টাকা ব্যায়ে ২৮/১ আজ তার বাস্তবায়ন হচ্ছে। সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্মারকলিপিতে কৃষকরা উল্লেখ করেন, এই চক্রটি বিগত দিনেও উপজেলায় সরকারের সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে বাঁধা প্রদান করে আসছে। মূলত: এই চক্রটি সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্থ করার কৌশল হিসেবে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে।

একই দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি মহুয়া মমতাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলি বরাবরে কৃষকদের দাবি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নির্মান কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতিপ্রদান তুলে ধরে সরেজমিন কারিগরি দিক পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
এদিকে, বাঁধ নির্মাণ কাজের দাবিতে জেলা প্রশাসক কৃষকদের দাবির বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা প্রশান্ত বিশ্বাসকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ফসল রক্ষার জন্য এ বাঁধ নির্মান করা হচ্ছে। উন্নয়নবান্ধব শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই এই অবহেলিত অঞ্চলে জোয়ার বইছে উন্নয়নের। উপজেলার সর্বত্র ঈর্ষনীয় উন্নয়নে সরকার বিরোধী একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। তিনি বলেন-বিগত দিনেও ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি,আগামীতেও হবেনা। তিনি বলেন, “ সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ২৬ ফেব্রুয়ারী একই স্থানে পিআইসির সভাপতি কৃপাসিন্ধু রায় ভানু আবারো যথারীতি বাঁধ নির্মান কাজ শুরু করলে উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে।

সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে কৃষকরা জানান, এই অঞ্চলের বোরো ফসল রক্ষায় কৃষকদের দাবিতে সকল উপযোগীতা যাচাই বাছাই শেষে নির্ধারিত স্থানে বাঁধনির্মান প্রকল্পটি বরাদ্ধ করা হয়। কিন্তু এতে বাঁধা দেয় কিছু সংখ্যক কুচক্রিমহল।

স্থানীয় কৃষক আশসাদ উদ্দিন জানান, যারা নির্মান কাজে বাঁধা প্রদান করছে-তাদের উদ্দেশ্য ভাল নয় এবং তাদের কোনও বোরো ফসল নেই। তবে, তাদের জমিতে কিছু সব্জির ফলন হয়। মান্নার গাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য সিরাজ মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীকে ভুল বুঝিয়ে ঐ চক্রটি নিজেদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায়। তিনি বলেন, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও আমরা ফসল রক্ষায় এই বাঁধ নির্মান কাজ সম্পন্ন করতে চাই।

ক্ষুব্দ কৃষক আবুল লেইছ জানতে চান- যারা বাঁধ নির্মানে অপ্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অপব্যাখ্যা প্রদান করছে- তাদের কারণে লক্ষ লক্ষ টন বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেলে এর দায় নিবে কারা?

পিইসির সভাপতি কৃপাসিন্ধু রায় ভানু বলেন, মুলত : “মাননীয় এমপি মহোদয় বর্তমানে রাস্ট্রীয় সফরে বিদেশ অবস্থান করছেন। ৩ মার্চ তিনি দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে আসার পর পরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে”।

প্রধানমন্ত্রি শেখহাসিনা সুনামগঞ্জের সবকটি হাওরে কৃষকদের ফসল রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মান কাজের নির্দেশ প্রদান করেন স্থানীয় সংসদ সদস্যদের। এরই ধারাবহিকতায় সুনামগঞ্জ-৫ এর সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শুধু মান্নারগাঁও ইউনিয়নেই প্রায় ১০টি বাঁধ নির্মান প্রকল্প গ্রহণ করা হয়- এবং যথারীতি সেগুলোর কাজও চলছে বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open