নগরীতে শিল্প কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না

ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকা-সিলেটসহ আটটি মহানগরীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। নদীর দূষণরোধ ও নাব্যতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোববার বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তাঁর সভাপতিত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘মহানগরীতে শিল্প কারখানা স্থাপন না হলে পরিবেশ ও পানি দূষণ কমে আসবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা গ্রহণ ও দূষণরোধে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে।’

শাজাহান খান বলেন, ‘পরিবেশ ও নদীর পানি দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিলোকেটেড করা হবে। ঢাকাসহ আটটি মহানগরীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। এতে পরিবেশ ও পানি দূষণ কমে আসবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবাগ্রহণ ও দূষণরোধে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে।’

শাহজাহান খান বলেন, ‘পরিবেশ ও নদীর পানি দূষণরোধে সাভারের ট্যানারির সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (সিইটিপি) ত্রুটিমুক্ত করতে শিল্প মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সিইটিপি সম্পূর্ণভাবে স্থাপন ও কার্যকরী না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারের বিল পরিশোধ না করতে সভায় নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে শাজাহান খান বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর সম্পূর্ণ অংশ, তুরাগ নদীর আংশিক এবং ধলেশ্বরী নদীর আংশিক সীমানা পুনঃজরিপ করা হয়েছে। আপত্তিকৃত এক হাজার ১৫৪টি পিলারের মধ্যে ৭৬২টি পিলারের পুনঃজরিপ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট আপত্তিকৃত পিলারের পুনঃজরিপ কাজ, চলমান রয়েছে। সীমানা পিলার উচ্ছেদ বন্ধ করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর (অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের) মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’

সভায় জানানো হয় যে, ঢাকা মহানগরের ৪৬টি খালের মধ্যে ২৬টি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি খাল উদ্ধার, সংস্কার ও পাড় বাঁধাইয়ের কাজ চলছে। ঢাকা শহরের খালগুলো খননের জন্য ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

সভায় আরো জানানো হয় যে, আদি বুড়িগঙ্গা উদ্ধারে জরিপ কাজ সম্পন্ন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে আটজন সার্ভেয়ারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। নদী তীরে অননুমোদিত স্থানে স্থাপিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

বৈঠকে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুস সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open