সঞ্জয় আচার্য’র ৩ টি কবিতা

অধৌত রেখে গেছ
সঞ্জয় আচার্য

ফাগুনসম্ভূত শরীর তাই পলাশের হাসি মুখে
উৎসবে জয়গান গাই কোকিলের মূর্ছনায়
আমের মুকুল, আমড়ার বোল
কিছু কিছু ঝরে পড়ে দখিনা বাতাসে
মধুলিট মাতোয়ারা শালমঞ্জরী সুবাসে।

বিলাসী সবুজ পাতায় মধ্যাহ্নের ধূলিস্নান
তপ্ত মহুয়া জ্বলে, তপ্ত শিমুল দোলে
বসন্ত আকাশ দেখার অপেক্ষায় ভাঁট ফুলের কোরক
ঘুঘুরা শিল্পী হয়ে সাজায় ইকেবানা
বাঁশবনের আড়ালে দখিনার পটমঞ্জরি
উড়ন্ত দিন রংবাজ
অজনা মধুরতায় প্রদীপ্ত নর্তক ঋতুরাজ।

ছুটে আসে উল্লসিত কিশোরীর দল
ঘুম ঘুম চোখে ক্লান্তির রেখা নিয়ে
মুখে লেগে আছে মধুযামিনীতে আঁকা স্বপ্ন
দিশেহারা মন, শিথিল তনু
বসন্ত বাতাসে উড়ে কাঞ্চনের রেণু
এলোপাথাড়ি চলার শেষ কোথায় জানে বুঝি মহুয়ার বন
তিলেকের সুখলগ্ন, মধুময় রাত
হৃদয়ের ভাষাহারা আলোর প্রপাত
একাকী সীমাহীন গণ্ডি পেরনো
আজ শুধু আজ থাক, না হোক পুরনো।

 

হলদিয়া
সঞ্জয় আচার্য

হলুদ বরণ সরষে ফুল হাওয়ায় দিলি দুল
কুশিয়ারার চপল মেয়ে ছাড়ল খোঁপার চুল।

পল্লীবালা পরলো তোরে সাজলি নাকের নেত
বইল বাতাস গন্ধে অলস হলুদপাটির খেত।

হলদে খামের চিঠি নিয়ে হলদিয়া পাখি
বলল— তার খবর নিয়ো হৃদমাঝারে রাখি।

হলুদ দিনের হলদে গাঁদা হলদে সূর্যমুখী
হলুদ রঙের কন্যারা সব রাঙিয়ে দিল আঁখি।

হলুদ মলাট উল্টে দেখি স্বপ্নরা সব সবুজ
পলাশ-শিমুল-কাঞ্চনেতে প্রেমের গল্প ত্রিভুজ।

হলুদ আশা নিয়ে এল ছোট্ট আমার শিশু
হলুদ কেন? মধুর হেসে সেও হল জিজ্ঞাসু।

 

বোধ
সঞ্জয় আচার্য

ফিরে আসবে মাঘী বরিখনে
কল্পনায় থাকা সব সুন্দর স্বপ্নের দিন
বিস্ময়ের মেঘ থেকে জন্ম নেওয়া স্মৃত গম্ভীরায় গণ্ডূষ ধারাস্নান
ঘাসফড়িঙ বিকেলের তালতলার আড্ডা
নেবুলা দেখে বুদ্ধিশূন্য হয়ে বিছানার চাদর জড়ানো ঘুম
তীব্র শীতে রাস্তা হেঁটে দৃশ্যান্তর প্রকৃতিপাঠ
টেবিলে পড়ে থাকা খবরের কাগজে ভালোমন্দবোধের ভূতভবিষ্যৎ।

ফিরে আসবে শৈত্যপ্রবাহে স্মরণাতীত কালের মর্মরধ্বনি, সুখ বর্ণানো চিত্রলিপি
ডানা ঝাপটে অভ্রে যেতে চাওয়া সন্ধ্যার ভৃঙ্গারিকা, মাটিমাখা বিষকাঁটালি।

Sharing is caring!

Loading...
Open