সিকৃবি থেকে চ্যান্সেলার এওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স গোল্ড মেডেল জকিগঞ্জের খাদিজা

জকিগঞ্জের খাদিজা ইয়াসমিন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম
স্থান অধিকার করায় চ্যান্সেলার এওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স গোল্ড মেডেল লাভ

দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের শেষ প্রান্তে জকিগঞ্জ উপজেলার ৪নং খলাছড়া ইউনিয়নের অজো পাড়াগায়ে খলাছড়া গ্রামের ও জকিগঞ্জ বাজারের সাবেক ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ ছনই মিয়া ও রোশনা বেগম এর কন্যা খাদিজা ইয়াসমিন । তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে খাদিজা ৪র্থ ।
তখনকার দিনে কুসংস্কারের প্রভাবে মেয়েদের ঘরের বাহিরে যেতে এমনকি বিদ্যালয়ে যেতে দেয়া হতো না । লেখাপড়া ছিলো একটি গন্ডির বেড়াজালে ।
মেয়েদের পণ্য মনে করে অল্প বয়সে বিদেশি পাত্রের কাছে তুলে দেয়া হতো। পর্দার কথা বলে মেয়েদের স্বাদ আহ্লাদ স্বাধীনতা খর্ব করা হতো ।সেই কুসংস্কারের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে খাদিজা বীরাঙ্গনার মতো নিজেকে সামাজিক সাংস্কৃতিতে সম্পৃক্ত থেকে বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে আসছিল ।
খাদিজা ইয়াসমিন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অনুষদে ২০১২সালে সর্বোচ্চ নিয়মিত ফলাফল ৩,৯৩ আউট অফ ৪,০০ পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করায় অর্জন করে ইউনিভার্সিটি এওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ।
মাস্টার পর্যায় ৩,৯৬ আউট অফ ৪,০০ স্থান অর্জন করায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মৃত্তিকা বিজ্ঞান থেকে চ্যান্সেলার এওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স (গোল্ড ম্যাডেল) অর্জন করে ।গোল্ড ম্যাডেল ও পুরস্কার রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ’র হাত থেকে তুলে নেয় খাদিজা ।
জকিগঞ্জের মেধাবী ছাত্রী খাদিজা ইয়াসমিন ২০০৬সালে জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪,৮১ ও ২০০৮সালে সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে সাফল্যের সাক্ষর রেখে জিপিএ অ+ পেয়ে ৫,০০ উত্তীর্ণ হয় ।
সে ভবিষ্যতে শিক্ষকতা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র আদর্শে সমাজ তথা দেশের তরে নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়। খাদিজা ইয়াসমিন তার সাফল্যের জন্য মা-স্বামী আত্মীয় স্বজন, সকল শিক্ষকমন্ডলী, পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে খাদিজা ইয়াসিনের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর মা ।

Sharing is caring!

Loading...
Open