কমলগঞ্জে চা বাগানে সহকারী ব্যবস্থাপকসহ ৫জন ষ্টাফকে ৭ঘন্টা অবরুদ্ধ করে কর্মবিরতি,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি::       কমলগঞ্জের দলই চা বাগানে সেকশনে ইরিগেশনের ইঞ্জিনে ব্যবহার হওয়া ব্যাটারী না পেয়ে, গাড়ীর চাকার দাগ কে অনুসরণ করে ব্যবস্থাপকের বাংলোতে কোম্পানীর গাড়ীর মধ্যে থেকে ২৪ ভল্টের বেটারী উদ্ধার করে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়েছে সেকশন পাহারাদার সহ চা বাগান শ্রমিকরা।
এ ঘটনার জেরে বাগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয় একটি দল। এসময় সহকারী ব্যবস্থাপক সহ পাঁচ জন বাগান স্টাফকে অফিসের মধ্যেই তালাবদ্ধ অবস্থায় সাত ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা সহ কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা। ব্যবস্থাপক বাবুল সরকারের গাড়ী চালক সুদর্শন মাহাড়া (৪৫) উপর হামলা করে গুরুতর আহত করে উত্তেজিত বাগান চা শ্রমিকরা।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের দলই চা বাগানে। আজ মঙ্গলবার (২০শে ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ধলাই চা বাগানে গিয়ে বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিক সেকশন পাহারাদার গৌরাঙ্গ গোয়ালা অভিযোগ করে বলেন , প্রতিদিনের ন্যায় চা বাগানের ৯নং সেকশনে ইরিগেশনের কাজে ব্যবহৃত মেশিন পাহারার জন্য আমি সহ রাজুপাশী ,রামতার ভর, তাপস ভর ,লিপাই ভর ও জয়ভর গতকাল সোমবার রাত ১০ টায় সেকশনের ভেতর যাই,তখন মেশিন ও বেটারী ঠিক ছিল পরে পাইপ চেক করে এসে দেখি মেশিনের মধ্যে বেটারীটি নেই। গাড়ীর চাকার দাগ কে অনুসরণ করে বাংলোর মধ্যে ডিউটিরত পাহারাদারদের নিয়ে গাড়ীর ভেতর তল্লাশি করে বেটারীটি খোঁজ মিলে। রাত দুটোর দিকে বিষয়টি বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি রামরতন গোয়ালা ও ইউপি সদস্য শিবনারায়ণ শীল কে অবহিত করা হয়। মঙ্গলবার সকালে বাগানের সকল শ্রমিকদের উপস্থিতিতে বেটারীটি উদ্ধার করে বাগানের কারখানায় নিয়ে আসা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর এরকম সেকশন থেকে ইরিগেশন ইঞ্জিনের বেটারী চুরি আর এর দায়বার চৌকিদার দের বহন করতে হয় এবং বেটারী দাম হিসাবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এই চৌকিদারদের কাছ থেকেই কেটে নেয়া হতো।
এদিকে খবর পেয়ে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত চা শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। বাগান ব্যবস্থাপক বাবুল সরকার, ফ্যাক্টরী ক্লার্ক গোলাম মাওলা ও টিল্লাক্লার্ক আব্দুল মতিনের অপসারণ দাবী করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরে দুপুর একটার দিকে বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকদের শান্ত করে আগামী শুক্রবার সালিশ বৈটকের আশ্বাস প্রদান করে অবরুদ্ধ থাকা সহকারী ব্যবস্থাপক সহ পাঁচ জন বাগান স্টাফকে তালা খুলে বাহির করা হয়।

এ ব্যাপারে বাগন ব্যবস্থাপক বাবুল সরকার তার উপর আনিত অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট বলে তিনি জানান। বাগানে প্রতিনিয়ত গাছ চুরি হচ্ছে, এর জন্য রুটিন মাফিক ভাবে একটি তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় বাগানের স্টোর কিপার ,হেডক্লার্ক ,টিল্লাক্লার্ক বাগান মালিকের নিয়োগকৃত চৌকিদার সহ ৬/৭ জনের একটি দল গত রাতে গিয়েছি ডিউটিদারদের তদারকিতে। ফেরার সময় ৯নং সেকশনে গিয়ে দেখা যায় তিন জন পাহারাদার আছে, কিন্তু সবাই ঘুমিয়ে রয়েছে। এদিকে ইরিগেশনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিন ও বেটারীটি অরক্ষিত রয়েছে দেখে তদারকি দলের সদস্যরা বেটারীটি নিয়ে এসে কোম্পানীর গাড়ীতে রাখে, কারণ প্রতিবছরই সেকশন থেকে বেটারী চুরি হয়ে থাকে। তাই চৌকিদারদের শাসানোর জন্য এটা মূলত আনা হয়েছিল। চুরি যাওয়া গাছের জন্য চৌকিদারদের পেসার দেওয়ার কারণে হয়তো চুরির সাথে সম্পৃক্ত একটি কুচক্রী মহল তা অন্যদিকে প্রবাহিত করতে ম্যানেজমেন্টকে হেয় করার চিন্তা ভাবনা করছে।
মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্পকুমার কানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমি এটা শালিস বৈটকের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে দিয়েছি।আগামী শুক্রবার এ বিষয় নিয়ে বসা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open