বড়লেখায় ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

বড়লেখা প্রতিনিধি::       বড়লেখার শাহবাজপুর বাজারের ভুয়া ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়েছে। এসময় কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বার থেকে তাদের নামের পুর্বে ডাক্তার ও শেষে ভুয়া ডিগ্রি উল্লেখিত সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হয়। এছাড়া একজন চিকিৎসক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন ও সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তীর নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ জোবায়ের লিটন, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন শাহবাজপুর সচেতন যুব পরিষদের সভাপতি সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, উপজলোর উত্তর শাহবাজপুর ইউপির শাহবাজপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় ব্যক্তি নামের পুর্বে ডাক্তার ও শেষে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। তাদের অপকর্ম বন্ধের ব্যবস্থা নিতে সচেতন যুব পরিষদ নামে স্থানীয় একটি সংগঠন সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসুচি পালন করে। এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ৮ জনকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার উর্মি রহমান। গত ১৯শে ফেব্র“য়ারী এ লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির পর বড়লেখা সহকারী কমিশনার (ভুমি), মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ হোসেন, স্থানীয় পুলিশ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে মঙ্গলবার শাহবাজপুর বাজারের অভিযুক্ত ডাক্তার পদবী ব্যবহারকারী রেজাউল করিম, আব্দুর রাজ্জাক, জামাল আহমদ, মেঘনাথ রুদ্র পাল, মকসুদ আলী, নুরুল আম্বিয়া, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়াসহ কয়েকজনের চেম্বারে অভিযান চালান। এসময় বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়াই নামের পুর্বে ডাক্তার ও ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করায় মেঘনাথ রুদ্র পালকে ৫ হাজার টাকা এবং পরীক্ষা কাজে ব্যবহৃত মেয়াদুত্তীর্ন কেমিকেল পাওয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘একজন ভূয়া চিকিৎসক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে আরও কিছু ব্যক্তি অল্টারনেটিভ চিকিৎসার নামে অ্যালোপাথিক ওষুধ লিখে থাকে। তাদেরকেও সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অ্যালোপাথিক ঔষুধ লিখলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open