বাঘের সড়কে সড়ক দূর্ঘটনার দেড়মাসেও মামলা হয়নি, পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা!

সুরমা টাইমস ডেস্কঃঃ     সড়ক দূর্ঘটনায় কানাইঘাটের মাওলানা জামিল হুসাইন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়নি প্রায় দেড়মাসেও। নিহতের পরিবার মামলা না করলেও দূর্ঘটনার জন্য দায়ি লেগুনা মালিকও তাদের সমবেদনা জানাতে যাননি। দূর্ঘটনার পর লেগুনা জৈন্তাপুরের দরবস্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহারের জিম্মায় থাকলেও গাড়িটি ফেরত পাচ্ছেন না মালিক রফিকুল ইসলাম। গাড়ি মালিকের অভিযোগ হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে।

তিনি বলছেন, হাইওয়ে পুলিশ সময়ক্ষেপন করছে, গাড়ি ফেরত দিচ্ছে না।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হাইওয়ে পুলিশের তামাবিল ফাঁড়ির আইসি মো. মাসুক মিয়া বলেন, হাইওয়ে পুলিশ গাড়ি আটক করেনি।

গাড়ির মালিক মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ টাকা নিয়েও আমার গাড়িটি ছাড়ছে না। এ বিষয়ে আমি হাইওয়ে পুলিশের আইসির সাথে একাধিকরার যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, আমি আইসিকে বলেছি হয় আমার গাড়ি ছাড়েন না হয় আমার বিরুদ্ধে মামলা দিন। পুলিশ আমার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষরিত একটি কাগজ রেখেছে। আমি এই বিষয় নিয়ে সংশয়ে আছি।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি দরবস্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার গাড়িটি আটক রেখেছেন এবং সাদা কাগজটি চেয়ারম্যানের কাছে রয়েছে।

কিন্তু রফিকের স্বাক্ষরিত সাদা কাগজটি নিজের কাছে নেই বলে দাবি করেন দরবস্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার। তিনি বলেন, গাড়ির মালিক মো. রফিকুল ইসলামও তার সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি।

এদিকে ক্বারী মাওলানা জামিল হুসাইনের ভাই জাকারিয়া জানান, আমরা এই বিষয়ে কোনো মামলা করিনি। মামলা করে কী আমার ভাইকে ফেরত পাবো। আমরা আল্লার উপর ছেড়ে দিয়েছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গাড়ির মালিক মো. রফিকুল ইসলামও আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। ওনার উচিৎ ছিলো আমার বাড়িতে এসে আমার পরিবারকে সমবেদনা জানানোর।
হাইওয়ে পুলিশের আইসি মাসুক আহমদ বলেন, এ দূর্ঘটনার ব্যাপারে আমরা কোনো মামলা করিনি। দরবস্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহারসহ গন্যমাণ্য ব্যক্তিরা গাড়িটি আটকে রেখেছেন। তারা আমাদের বলেছেন বিষয়টি তারা দেখে দিবেন।

উলে­খ্য, মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে নিজ বিয়ের দাওয়াত দেওয়ার জন্য বের হয়ে সিলেটের তামাবিল মহাসড়কের বাঘের সড়ক নামক স্থানে গত ৭ ডিসেম্বর মোটরসাইকেল-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন কানাইঘাটের মাওলানা জামিল হুসাইন ও এহিয়া নামের আরো একজন মোটর সাইকেল আরোহী আহত হন। এরপর থেকে মাওলানা জামিল হুসাইন সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে গত ১১ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাওলানা জামিল হুসাইনের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার বড় চতুল ইউনিয়নের হারাতৈল বড়াই গ্রামে। ক্বারী মাওলানা জামিল হুসাইন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কানাইঘাট চতুল ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open