সিলেটে শেষ ম্যাচেও বড় হার বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক::     আপোনসোর প্রথম শিকার মাহমুদউল্লাহতামিম দলে ফিরেছিলেন, উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গে ছিলেন গত ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা সৌম্য সরকার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১১ রানের টার্গেটে দারুণ শুরুর প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে। কিন্তু টানা দুই ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। সেই চাপ আর কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৮.৪ ওভারে তারা গুটিয়ে যায় ১৩৫ রানে। ৭৫ রানে জিতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো শ্রীলঙ্কা।

লক্ষ্যে নেমে দ্বিতীয় বলে ছয় মেরে গ্যালারিকে উচ্ছ্বাসে ভাসান তামিম। কিন্তু প্রথম ওভারে কেবল ৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। অন্য প্রান্তে অনুজ্জ্বল ছিলেন সৌম্য। দ্বিতীয় ওভারে আকিলা ধনঞ্জয়ার শিকার হন তিনি রানের খাতা না খুলেই। পয়েন্টে জীবন মেন্ডিস এ ওপেনারের ক্যাচ ধরেন।

পরের ওভারে শেহান মাদুশানকার জোড়া আঘাতে শ্রীলঙ্কা চেপে ধরে স্বাগতিকদের। এ ডানহাতি পেসার তার দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ও শেষ বলে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনকে ফেরান। ছয় মেরে পরের বলেই মিড অনে থিসারা পেরেরার ক্যাচ হন মুশফিক (৬)। মাত্র ৩ বলে ৫ রানে শেষ হয় মিঠুনের ইনিংস, তার ক্যাচ ধরেন জীবন।

বিপদ কাটাতে মাহমুদউল্লাহ ও তামিম ক্রিজে ছিলেন। কিন্তু পারেননি বেশিক্ষণ টিকতে তারা। ইনজুরিতে প্রথম ম্যাচে ছিলেন না তামিম। সিলেটে ফিরলেন তিনি। কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে দলের হাল ধরতে পারলেন না এই ওপেনারও। ২২ রানে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়ে ফিরলেন তামিম।

অভিষেক হওয়া আমিলা আপোনসোর শিকার হয়েছেন তিনি। পরের ওভারে আরিফুল হককে ফেরান জীবন মেন্ডিস। তামিম ২৯ রানে কভার বাউন্ডারিতে আকিলার ক্যাচ হন, ২৩ বলের ইনিংসে দুটি করে চার ও ছয় মারেন তিনি। পরের ওভারে এলবিডাব্লিউ হয়ে আরিফুল ফেরেন ২ রানে। ৬৮ রানে বাংলাদেশ হারায় তাদের ৫ ব্যাটসম্যানকে।

এরপর ইসুরু উদানার জোড়া আঘাতে মাহমুদউল্লাহ ও সাইফউদ্দিনের প্রতিরোধ ভাঙে শ্রীলঙ্কা। উদানার ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ ফসকে জীবন পান সাইফ, কিন্তু মাহমুদউল্লাহ হারান উইকেট। নন স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে সিঙ্গেলের জন্য দৌড় দেন অধিনায়ক। সাইফ ছিলেন তার ক্রিজে অনড়। মাহমুদউল্লাহ ফিরে আসতে আসতেই মিড অন থেকে জীবনের থ্রো থেকে রান আউট করেন উদানা। ৪১ রান করেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। সাইফ ২০ রান করে বদলি ফিল্ডার ভ্যান্ডারসেকে ক্যাচ দেন।

৩ রানের ব্যবধানে টানা দুই ওভারে শেষ ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ১৮তম ওভারে দাশুন শানাকা ১১ রানে উদানার ক্যাচ বানান মেহেদী হাসানকে। পরের ওভারে দানুশকা গুনাথিলাকা নেন শেষ দুটি উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান ৮ রানে বোল্ড হন। আবু জায়েদ রাহী ২ রানে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক দিনেশ চান্ডিমালের হাতে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে ৮ জন বোলার বল করেছে শ্রীলঙ্কার। দুটি করে উইকেট নেন গুনাথিলাকা ও মাদুশানকা। একটি করে পেয়েছেন আকিলা, শানাকা, আপোনসো, জীবন ও উদানা।

Sharing is caring!

Loading...
Open