কানাইঘাটে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন

নিজস্ব প্রতিনিধি::     সিলেটের কানাইঘাটে স্বামীর ছুরিকাঘাতে আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন গৃহবধূ জাহানারা বেগম (১৯)। এ ঘটনায় শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীকে আটক করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।

আজ শনিবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত জাহানারা বেগম উপজেলার বড় চতুল ইউপির মালিগ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের মেয়ে।

জানা যায়, প্রায় বছরখানেক পূর্বে লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের শফিকুল হকের পুত্র রিক্সা চালক ইব্রাহিম আলী উরফে ইমন (২৩) পরকীয়ার মাধ্যমে জৈন্তাপুর উপজেলার ছাতারখাই গ্রামের জয়নালের স্ত্রী জাহানারাকে বিয়ে করেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, ইমন একটি মামলায় প্রায় আড়াই মাস কারা ভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে জাহানারার পিত্রালয় থেকে স্ত্রী জাহানারাকে গত সোমবার তার বাড়ীতে নিয়ে আসে।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় বাড়ীর পাশে একটি ছড়ায় জাহানারা বেগম গোসল করতে যায়। এ সময় পাশের বাড়ীর ইমনের চাচাতো ভাই সিরাজ উদ্দিন (২৫) এর সাথে জাহানারা বেগমকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় আলাপ করতে দেখে ইমন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সিরাজ উদ্দিনের উপর হামলার চেষ্টা করে। এতে সিরাজ উদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলে ক্ষুব্ধ হয়ে সে স্ত্রী জাহানারাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত আহত করে।

জাহানারার আর্তচিৎকারে তার শ্বশুড় শফিকুল হক ও শ্বাশুড়ী রাহেনা খাতুনসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ঘাতক স্বামী পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জাহানারাকে উদ্ধার করে তার শ্বাশুড়-শ্বশুড়ী কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) নুনু মিয়া হাসপাতালে গিয়ে নিহতের লাশ থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় শ্বশুড় শফিকুল হক (৫৫) ও শ্বাশুড়ী রাহেনা খাতুন (৪৮)-কে হাসপাতাল থেকে আটক করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পক্ষ থেকে কোন ধরনের মামলা দায়ের করা হয়নি।

থানার ওসি (তদন্ত) নুনু মিয়া জানান, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমনের বাবা-মাকে আটক করা হয়েছে। খুনী ইমনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open