আজ রাতেই নির্ধারন হবে খালেদা জিয়ার নিয়তি!

সুরমা টাইমসঃ গত ৮ই ফেব্রুয়ারী বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্ণিতি মামলায় কারাগারে প্রেরন করেন ঢাকা একটি বিশেষ জজ আদালত। ওই দিন থেকেই বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্চে বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের এসব আন্দোলনে পুলিশ ও প্রশাসন দৃশ্যত কোন ধরনের বাধাই প্রদান করেনি।

যদিও বিএনপি নেতৃবৃন্দের অভিযোন সরকারের কুটকৌশলের কারনে তারা মামলার সত্যায়িত অনুলিপি দীর্ঘ আট দিনেও আদালত থেকে উত্তোলন করতে পারেন নেই। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তাদের ধারনা আদালত আসলে ৬৩২ পৃষ্ঠার কথিত রায় সম্পূর্ণ করতে পারেন নি। শুধু রায়ের মূল অংশটুকুই লিখেছিলেন এবং তা পড়ে শুনিয়েছিলেন। এখন অসম্পূর্ণ বাকী রায় সরকারের নির্দেশ মোতাবেক সম্পূর্ণ করছেন। অন্তত বিএনপি নেতৃবৃন্দের গত কয়েকদিনের বক্তব্যে এটাই বারবার বলা হচ্ছিল। বিএনপি নেতা রিজভি সংবাদ সম্মেলনে বলেন নিশ্চয় সরকার প্রধানের নির্দেশে মনগড়া রায় সংশোধন করা হচ্ছে। আর সে জন্য রায়ের কপি দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে।

অপরদিকে বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে আমরা অনেক ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য পেয়েছি গত কয়েক দিনে। বিএনপির আন্দোলনের মূরোদ নেই তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, জনগনের সমর্তন নেই এই ধরনের অনেক কথা। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী পর্যায়ের অনেক নেতা বলেছেন বিএনপি অক্ষমতার অজুহাত হিসেবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কৌশল নিয়েছে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র আমরা দেখেছি বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের মানববন্ধন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ‘বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাব না’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা।

বিভিন্ন টেলিভিশনে টক শো-তে আলোচকরা পুলিশের প্রশংশা করে মন্তব্য করেছিলেন যে পুলিশ এত ভাল হল কি করে? বিএনপির কর্মসূচীতে অতীতের তুলনায় এবার পুলিশ বা প্রশাসন দৃশ্যত কোন ধরনের বাধাই প্রদান করেনি। অনেকেই প্রশংশার ঢেকুর তুলছিলেন পুলিশের দায়ীত্ব কর্তব্য পরায়নতা ও জনসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্যরখম। মূলত বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয় ৮ই ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার। শুক্র, শনি বার সরকারি ছুটি। ১১ই ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণ ও ভ্যাটিকান সফরে ইতালির উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন। চার দিনের সরকারি সফর শেষে আজ রাত ৮টায় দেশে ফিরিবেন প্রধানমন্ত্রী।

লন্ডনে আওয়ামীলীগের দায়ীত্বশীল কিছু নেতার সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই সিদ্ধান্ত নেবেন আদৌ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হবে নাকি কারাবাস দীর্ঘায়ীত করা হবে। আওয়ামীলীগের যত উচ্চ পর্যায়ের নেতা বা মন্ত্রী দেশে থাকেন না কেন বস্তবে তাদের নীতি নির্ধারনী কোন ক্ষমতাই নেই। রাজনীতি মাঠ সরগরম ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেন। পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে কখনও নেতাকর্মীদের কাউয়া, ভ্যাড়া বলতেও দ্বিধাবোধ না করলেও বাস্তবে এরখম পরিস্থিতিতে মূল সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই রাখেন।

অতীতেও আমরা দেখেছি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে কি ঘটেছিল। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করার পর বিএনপি সহ সমমনা দলগুলো উল্লাস করছিল । ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের মন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূলের কোন নেতা রায় নিয়ে টু-শব্দটি করেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরলেন, প্রকাশ্যে রায়ের বিরোধিতা করলেন, এই পর থেকেই শুরু হল হই হুল্লোড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগনের কাছে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিচার চাইলেন (প্রকারান্তরে…) তারপরই বিচারপতি সিনহার ওপর খড়গ নেমে এল। দেশ ত্যাগ করলেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

অতীতের এসব ঘটনার বিচার বিশ্লেষন ও প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের ধারনামতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষার প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব সহ সরকারের সকল বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও দেশের বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। দেশে ফিরেই প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সব রিপোর্ট মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদৌ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হবে নাকি কারাবাস দীর্ঘায়িত করা হবে। তাই ধারনা করা যায়, আজই নির্ধারন হবে বেগম খালেদা জিয়ার নিয়তি! দীর্ঘায়ীত কারাবাস নাকি তড়িৎ মুক্তি!

Sharing is caring!

Loading...
Open