তাহিরপুরে চোরাই কয়লারঘাট নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, ১০জন আহত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::         সিলেটের সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে চোরাই কয়লা বিক্রির ভাগভাটোয়ারা ও কয়লারঘাটের মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৩জনকে বুধবার রাত ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতরা হলেন-উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের চোরাই কয়লা পাচাঁরকারী গ্রুপের শ্রমিক সর্দার হামিদ মিয়া(৫৫),তার প্রতিপক্ষ একই গ্রামের চোরাই কয়লা পাচাঁরকারী গ্রুপের শ্রমিক সর্দার সুজন মিয়া(৩২) ও মুসলিম মিয়া(৩৫)। আর অন্যান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়,উপজেলার টেকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের ১১৯৮পিলারের পূর্বদিকে অবস্থিত ৮টি চোরাই কয়লারঘাট দিয়ে বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী জিয়াউর রহমান জিয়া, কালাম মিয়া,আব্দুল হাকিম ভান্ডারী ও কয়লা পাচাঁর মামলা নং-৯,জিআর-১৫৮/০৭এর আসামী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে লাকমা গ্রামের চিহ্নিত চোরাচালানী মোক্তার মহলদার, রফিকুল ইসালম,সিদ্দিক মিয়া,বদিউজ্জামাল ও রশিদ মিয়া গং প্রতিদিন রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে কয়লা ও কয়লার বস্তার ভিতরে করে মদ,গাজা,হেরোইন,ইয়াবা ও অস্ত্র পাচাঁর করে ঠেলাগাড়ী ও ট্রলি দিয়ে অসিউর রহমানের ডিপুতে ও পুটিয়া গ্রামসহ দুধেরআউটা গ্রামে নিয়ে বিক্রি করে।

গতকাল বুধবার রাত ৮টায় পাচাঁরকৃত কয়লার টাকার ভাগভাটোয়ারা ও কয়লারঘাটের মালিকানা নিয়ে চোরাচালানী মোক্তার মহলদার ও তার শ্রমিক সর্দার সুজন মিয়া সাথে চোরাচালানী রফিকুল ইসলাম ও তার শ্রমিক সর্দার হামিদ মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

তারই জেরধরে দু’পক্ষের লোকজন লাটিসুটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০জন আহত হয়। এব্যাপারে গুরুতর আহত মুসলিম মিয়া বলেন,ভারতের কয়লা পাচাঁরের সাথে আমি সাথে জড়িত না,মোক্তার মহলদারের পক্ষে সুজন মিয়া ও হামিদ মিয়া অন্যগ্রুপের পক্ষে কয়লা পাচাঁর কাজ করে, আমি মারামারি বন্ধ করতে গিয়ে তাদের হামলার শিকার হয়েছি। শ্রমিক সর্দার হামিদ মিয়া বলেন,পাওনা টাকা চাওয়ায় সুজন মিয়া,মুসলিম ও তাদের লোকজন আমার উপর হামলা করেছে। এব্যাপারে তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য,এরআগে গতকাল দুপুর ২টায় চোরাচালানী আব্দুল হাকিম ভান্ডারীর পাচাঁরকৃত ১০৫বস্তা কয়লা ও ভারত থেকে পাচাঁরের সময় চোরাচালানী কালাম মিয়ার বাড়ি থেকে ১বস্তা মদ জব্দ করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বিজিবি ও পুলিশ।

Sharing is caring!

Loading...
Open