বিছনাকান্দিতে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা

সুরমা টাইমস ডেস্ক::            সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দিতে পাথর কোয়ারি ধসে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পাচ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের পিতা জালাল মিয়া । রবিবার গোয়াইনঘাট থানায় নিহত রোহেল মিয়ার চাচাসহ পাঁচ জন বিবাদি নিয়ে এই মামলাটি করেন তিনি । মামলায় আসামীদের বেপরোয়া ভাবে পাথর উত্তোলনের উদ্দ্যেশে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখার কারনে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাঁচজনকে আসামী করে মামলা করা হলেও উক্ত কোয়ারীর অন্যতম মালিক গোয়াইন ঘাট ইউনিয়ন আওয়ামীলিগ এর সেক্রেটারি হেলাল আহমেদ এর তাতে নাম নেই। অজ্ঞাত কারনে তার নাম মামলাতে রেকর্ড করা হয়নি।

অভিযোগ আছে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হেলাল নিজেকে রেখেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদিকে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম-এসএনএফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম মনে করে শ্রমিকগণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ব্যতিত নিয়োগকারী কাউকে কর্মে নিয়োগ করতে পারবে না এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নিয়োগকারী প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করবে-এ কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু সিলেটের এ ঘটনায় এটি প্রতীয়মান হয় যে, সেখানে শ্রম আইনের এই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিছনাকান্দির কুলুমছড়াপাড় গোচর এলাকার কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের সময় কোয়ারি ধসে পাথর চাপা পড়ে সোহেল মারা যান । এর আগে গত ২রা জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে সিলেটের
জাফলংয়ে জুমপাড় মন্দির এলাকায় নানু মিয়ার পাথর কোয়ারিতে গর্তের মাটি ধসে এক নারীসহ চার শ্রমিক নিহত এবং তিন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। রবিবারও শাহ আরেফিন টিলায় ঘটেছে আরেকজন শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা । এভাবে একের পর এক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে পাথর শ্রমিকরা এবং এ মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে, আর কত প্রাণহানি ঘটলে কর্তৃপক্ষ সচেতন হবে সেটি এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিছনাকান্দিতে পাথর শ্রমিক রোহেল মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের কৃত মামলায় পাচ আসামী হলেন মনির উদ্দিন (৪৫) পিতা তছলিম আলী ,নজমুল (৩০)পিতা সামছুল মিয়া,আব্দুল হান্নান(৫০) পিতা মাহমুদ আলী,বাবুল মিয়া (৪৫)পিতা ইলাছ আলী,তাজুল ইসলাম (২৮) পিতা ফয়জুর রহমান। এছাড়া ওজ্ঞাত আরো কয়েকজন কে মামলায় আসামী করা হয়। তাদের সবার ঠিকানা গোয়াইনঘাট থানাধীন বিছানা কান্দি এলাকায় বলে উল্লেখ করা হয়।
নিহত রোহেল পিতা অভিযোগ করেন আসামীগন একে অপরের সহায়তায় ও যোগসাজগে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবে যন্ত্রপাতি বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করে শ্রমিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করে আশুমৃত্যু জেনেও অধিক লাভের আশায় তার ছেলে মৃত্যু ঘটিয়েছে। তিনি এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা নয় হত্যা বলে উল্লেখ করে বলেন নিরাপত্তা বুস্থা না থাকাই এই মৃত্যুর মুল কারন। তবে মামলায় কোয়ারির মুল মালিক না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগন।
অভিযোগ আছে স্থানীয় থানাকে ম্যানেজ করে হেলাল নিজেকে রেখেছেন সুরক্ষিত। এ ব্যাপারে গোয়াইন থানার ওসির মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৭৮.ক ধারায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় বলা হয়েছে।শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম মনে করে আর সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে পাথর কোয়ারিতে পরিদর্শন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি ও প্রাণহানির শংকা বাড়তেই থাকবে।
এছাড়াও শ্রম আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ এর মাধ্যমে উপরোক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছে শ্রমিক
নিরাপত্তা ফোরাম। পাশাপাশি ঘটনায় নিয়োগকারীসহ দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি বিধান করা, হতাহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি সারাদেশে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে অবিলম্বে শ্রম আইন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open