পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় মেডিকেল ছাত্রীর আত্মহত্যা

সুরমা টাইমস ডেস্ক::
রাজশাহী নগরীর বহরমপুর ব্যাংক কলোনি এলাকায় জান্নাতুন ওয়াদিয়া মিতু নামের রাজশাহী মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে পুলিশ তার নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

জান্নাতুন ওয়াদিয়া মিতু রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ডেন্টাল তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মতিউর রহমান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বালুগ্রাম আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ। মিতু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানীর রামেক ইউনিটের শিক্ষা, গবেষণা ও পরিসংখ্যাণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, শনিবার জান্নাতুন ওয়াদিয়ার তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা খারাপ হয়েছে বলে তিনি বাড়িতে জানান। এ সময় বাড়ির লোকজন তাঁকে বকাবকি করেন। এরপর তিনি নিজ ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। দীর্ঘ সময় তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওয়াদিয়ার লাশ ঝুলে থাকতে দেখেন।

মিতুর সহপাঠীরা জানান, মিতু রাজশাহী বিডিএস এর ২৫ ব্যাচের ছাত্রী হলেও একবছর অকৃতকার্য হওয়ায় ২৬ ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস করতেন। শনিবার তার মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় তিনি মন খারাপ করে বাড়ি ফেরেন। ওইসময় তার মা-বাবা দুজনই বাড়ির বাইরে ছিলেন। এক বছর পিছিয়ে যাওয়ায় হতাশায় ভুগতেন মিতু। আগেও এ নিয়ে মন খারাপ করে থাকতেন।

মিতুর বাবা মতিউর রহমান জানান, তার মেয়ের পরীক্ষা চলছিল। সম্ভবত পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open