এবার ‘মুসলমান’ শব্দে আপত্তি…….!

সুরমা টাইমস ডেস্ক::  ফের ভারতের কেন্দ্রীয় সেন্সর বোর্ড সিবিএফসি-র কোপে বাংলা সিনেমা। এবার সেন্সরের ফাঁসে কলকাতার পরিচালক রঞ্জন চৌধুরির ‘চিরদিনের, এক অন্য প্রেমের গল্প’। ছবিতে ব্যবহৃত ‘মুসলমান’ শব্দ নিয়ে আপত্তি তোলা হল। আপত্তি তোলা হয়েছে আরও একাধিক শব্দ ও দৃশ্য নিয়েও।

ছবির গল্প পশ্চিমবঙ্গের মাধাইতলা উচ্চমাধ্যমিক স্কুলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। শিক্ষক ঋত্বিকবাবু ও ছাত্রী জয়ীর সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন রটে। গ্রাম ছেড়ে চলে যান শিক্ষক। এমন সময় গ্রামে আসে শাহিল নামের এক যুবক। জয়ীকে ফের জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করে। যা মোটেও ভাল চোখে নেয়নি পঞ্চায়েত প্রধান অবিনাশ চৌধুরি। অবিনাশের মেয়ে তিথি আবার শাহিলের প্রেমে পড়ে যায়। এভাবেই গল্প সাজিয়েছেন পরিচালক রঞ্জন চৌধুরি।

সিনেমাটির মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন সমদর্শী দত্ত, সৌমি ঘোষ, বাংলাদেশি অভিনেত্রী শম্পা হাসনাইন, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতারা।

বোলপুরে হয়েছে ছবির শুটিং। কিন্তু তখনও পরিচালক বুঝতে পারেননি গ্রামবাংলার এ কাহিনিতেও আপত্তি তুলবে সেন্সর বোর্ড। ‘মুসলমান’ শব্দটি ছাড়াও আরও দুটি শব্দ বাদ অথবা মিউট করার নিদান দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি দৃশ্য নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। পরিচালকের অভিযোগ, এ নিয়ে কথাই বলতে চাননি সিবিএফসি কলকাতার কোনো কর্মকর্তা। উল্লেখিত দৃশ্য ও শব্দ বাদ কিংবা মিউট না করলে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, প্রায় একই সমস্যায় পড়েছিলেন পরিচালক রঞ্জন ঘোষও। আপত্তি উঠেছিল তাঁর ‘রংবেরঙের কড়ি’ নিয়ে। যেখানে রাম ও সীতা নামে দুই আদিবাসী দম্পতি একে অন্যের থেকে ডিভোর্স চেয়ে বসে। এ নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। রাম-সীতার নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছিল তাঁরা। কিন্তু সে নাম অক্ষত রেখেই বছরের শুরুতে ছবিকে ছাড়পত্র দিয়েছিল সিবিএফসি।
তবে পরিচালক সুমন ঘোষকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের তথ্যচিত্র থেকে ‘গুজরাট’ শব্দটি বাদ দিতেই হয়েছিল। সে ঘটনাকে আবার স্মরণ করিয়ে দিল ‘চিরদিনের, এক অন্য প্রেমের গল্প’। তবে নিজের ছবি থেকে তা বাদ দিতে নারাজ রঞ্জন। এর জন্য লড়াইয়ে যেতেও প্রস্তুত তিনি। ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপেলেট ট্রাইবুনালে (এফসিএটি) যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন এই বাঙালি পরিচালক।

Sharing is caring!

Loading...
Open