পুণ্যভূমি সিলেট সফরে কি বার্তা দেবেন খালেদা জিয়া…….?

বিশেষ প্রতিবেদন::    পুণ্যভূমি সিলেট সফরে কি বার্তা দেবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়া। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিবেন না নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানাবেন এমন প্রশ্ন উঠেছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে সিলেট বিএনপির নেতারা শুরু থেকেই দাবি করছেন খালেদা জিয়ার সিলেট সফর শুধুমাত্র মাজার জিয়ারতের জন্য।

আজ সোমবার (৫ই ফ্রেবুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরকে নিয়ে সিলেট সফর করবেন।

দুর্নীতি মামলার রায়ের ঠিক আগে খালেদা জিয়ার এ সফর এ অঞ্চলের মানুষের জন্য কি বার্তা থাকছে- তা নিয়ে বেশ কৌতুহল দেখা গেছে নেতাকর্মী থেকে সাধারণের মধ্যে। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের টিকিট প্রত্যাশীরা মুখিয়ে রয়েছেন। সেইসঙ্গে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দৌড়ে থাকা নেতারাও গ্রিন সিগন্যাল পেতে তৎপর রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর পর সিলেট আসছেন খালেদা জিয়া। সবশেষ ২০১৩ সালের ৫ই অক্টোবর সিলেট সফরে যান তিনি। এর আগে ২০১১ সালের ১১ই অক্টোবর বিশাল গাড়িবহর নিয়ে রোডমার্চ করে ঢাকা থেকে সিলেট এসেছিলেন।

জানা গেছে, আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলার (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) রায়কে সামনে রেখে দলের করণীয় সম্পর্কে সিলেটে বক্তব্য দিবেন। সেই সাথে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি আবারও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। এমনকি তিনি সিলেট থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আনুষ্টানিক ঘোষণাও দিতে পারেন তিনি।

বিএনপির একাধিক সূত্রের ভাষ্য, খালেদা জিয়া সিলেট সফর করছেন দলের বিশেষ সংকটময় পরিস্থিতিতে। সিলেট সফরে চেয়ারপারসনের রায়, আগামী নির্বাচন ও সাংগঠনিক রূপরেখা— তিনটি বিষয়ই প্রাধান্য পাবে। এর সঙ্গে আরও কিছু বিষয় যুক্ত হবে।

বিএনপির রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দলীয় ইতিহাসে বিএনপি কয়েকবার বিপদে পড়েছে। এর মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের মেয়াদে এবং ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুই ভাগ হয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ফখরুদ্দীনের সময় সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়ে দলটি। সিলেট বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান-ওয়ান-ইলেভেন নামে পরিচিত এই সময়ে শুরু হওয়া সংকটের রেশ এখনও আছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও কয়েক দফা ভাঙার চেষ্টা করেছে বিএনপিকে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে সিলেটে নেতাদেরকে কিছুটা দিকনির্দেশনা দেবেন খালেদা জিয়া। আর এর মধ্য দিয়ে দলীয়ভাবে নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন তিনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেফতার হওয়ার পর খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা দিলেও দলের করণীয় সম্পর্কে খালেদা জিয়া কিছুই বলে যেতে পারেননি।

আর এবার তিনি প্রস্তুতি নিয়েই নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তার বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল কীভাবে পরিচালিত হবে সেই নির্দেশনা তার কাছ থেকেই পাওয়াটা বিএনপির রাজনীতির জন্য মাইলফলক।

Sharing is caring!

Loading...
Open