বিয়ানীবাজারে ছেলের পরকীয়ার বলি গর্ভধারীনি মা

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন–::       প্রায় তিন বছর ধরে ভাবীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল দেবর কামাল হোসেন। বিয়ের মাস তিনেক পর পরকীয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে কামালকে ছেড়ে চলে যায় তার স্ত্রী। এরপর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা। বিষয়টি মা’র কাছে ধরা পড়ে। কিন্তু মা বড় ছেলের সংসার টিকবে না-এই ভেবে কুয়েত প্রবাসী অপর ছেলের কাছে তা গোপন রাখেন। এরপরও ছোট ছেলে কামালকে সংযত করতে পারেননি।
উপায় না দেখে বড় বউকে তার বাপের বাড়ি জকিগঞ্জে পাঠিয়ে দেন। সেখানেও দেবর-ভাবীর রঙ্গলীলা চলতে থাকে।

গত এক সপ্তাহ আগে বাড়ি ছাড়ে কামাল হোসেন। ভাবীর পরকীয়ার টানে জকিগঞ্জে তার বাপের বাড়িতে যায় সে। ছেলেকে খুঁজতে মা’ও যান সেখানে। এতে চরম লজ্জা পায় বড় ছেলের বউ ও ছোট ছেলে কামাল। সেই ক্ষোভে মাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার বিকালে বাড়ি ফিরে মাকে আঙ্গিনায় বসা অবস্থায় দেখতে পায় কামাল।

সেখানেই মা’র মাথায় জোরে আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ছয়মুন বিবি (৫৫)। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মাকে খুন করে কামাল। ঘটনাটি ঘটে বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের কামারগ্রামে। নিহত ছয়মুন বিবির স্বামীর নাম মৃত তাহির আলী সুন্দর। তিনি দুই পুত্র ও দুই কন্যার জননী। পুলিশ কামাল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করে।

চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী জানান, কুয়েত প্রবাসী দুই ভাইয়ের কারো ছেলে সন্তান নেই। বড় ভাইয়ের বিয়ের পর ছোট ভাই কামাল ভাবীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বড় ভাই দেশে ফিরে কামালকে বিয়ে দেন। কিন্তু এরপরও বে-পথ থেকে ফিরেনি সে। তিনি বলেন, মাত্র ১৫ দিন আগে সে কুয়েত থেকে দেশে আসে।

বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, কামালের বউ স্বামীর ওপর অভিমান করে বাপের বাড়ি চলে গেলেও তাদের মধ্যে এখনো ডিভোর্স হয়নি। এবার দেশে ফেরার পর কামালের ডিভোর্সের কথাবার্তা শুরু হয়। তিনি বলেন, ভাবীর সঙ্গে পরকীয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে পুরো ঘটনাটি জানা যাবে।

এদিকে মাকে খুন করার পর ঘাতক ছেলে কামাল নিজ ঘরের চিলেকোঠায় লুকিয়ে থাকে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে জামাই ছাইম উদ্দিন বাদী হয়ে কামাল হোসেনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল মুন্সী বলেন, মাকে খুনের ঘটনায় কারো ইন্ধন থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open