পুলিশের সদস্যের কোনো অপরাধের দায় পুলিশ নেবে না: নতুন আইজিপি


সুরমা টাইমস ডেস্ক ঃঃ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার সাংবাদিকদের সামনে এসে সতর্কতার সঙ্গে সব পক্ষের জন্য বার্তা দিতে চেয়েছেন নতুন আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

ভোটের বছরের শুরুতে পুলিশের শীর্ষ পদে আসা এই কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। আর পুলিশের কাজ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তা পুলিশ আইনের মধ্যে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গেই করবে।

সবার সহযোগিতা পেলে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মত’ মাদক নির্মূলেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলার কথা বলেছেন তিনি।

গত সাত বছর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা জাবেদ পাটোয়ারী বুধবার বিদায়ী আইজিপি একেএম শহীদুল হকের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পুলিশ সদরদপ্তরে তিনি প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন।

তিনি বলেন, “সবাইকে পাশে পেলে জঙ্গিবাদকে যেভাবে নির্মূল করেছি, মাদকও নির্মূল করব। মাদক নির্মূলে পুলিশের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’।”

জাবেদ পাটোয়ারীর ভাষায়, মাদকের যতদিন চাহিদা থাকবে, ততদিন এর যোগান থাকবে। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

“এর সাথে অনেক কিছু জড়িত আছে। সবাইকে নিয়ে কাজ করলে মাদক নির্মূল করা যাবে।”

তিন দশকের বেশি সময় পুলিশ বিভাগের চাকরিতে থাকা এই কর্মকর্তা বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পুলিশ জনগণের সেবা দিয়ে থাকে। পুলিশের কোনো কর্মঘণ্টা নেই। তবে কখনও কখনও কিছু পুলিশ সদস্যের কিছু কাজে বিব্রত হতে হয়; মাদকের কারবারেও পুলিশের জড়ানোর অভিযোগ কখনও কখনও এসেছে।

বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন আইজিপির বার্তা- “পুলিশের কোনো সদস্যের অপরাধের দায় পুলিশ নেবে না। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তাকে অপরাধী হিসাবে দেখে প্রচলিত নিয়ম নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।”

আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী চান, তার বাহিনী হবে ‘নারীবান্ধব, জনবান্ধব, শিশুবান্ধব এবং প্রগতীবান্ধব’।

পুলিশ মহা পরিদর্শক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের এক দিন আগে ঢাকার হাই কোর্ট মোড়ে পুলিশের ওপর বিএনপিকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজেনা ক্রমশ বাড়ছে।

তাছাড়া বছরের শেষভাগে ভোটের সূচি থাকায় মাস গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন,“নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের করণীয় আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে যাব।”

এছাড়া সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং থানায় সেবার মান বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open