খালেদাকে মাইনাসের চিন্তা করলে আপনারা বাঁচবেন না

সুরমা টাইমস ডেস্ক::     বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মাইনাসের চিন্তা করলে ক্ষমসীনরাও বাচঁতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পৃথক অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।

দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার মাইনাস ওয়ান ফর্মূলায় খালেদা জিয়া-বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। কিন্তু আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এক-এগারোর কুশীলবরা যেমন মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি, উল্টো তারাই এখন দেশ ছাড়া। তাই এ ধরনের চিন্তা করলে আপনারাও বাঁচতে পারবেন না।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া ৫৭ ধারা থেকেও আরো ভয়ংকর। যেই যেই কাজ করলে ৫৭ ধারায় অভিযুক্ত হওয়ার কথা ছিলো সেই সকল কাজকে এই আইনে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি বাকশালের ধ্যান-ধারণায় সংবাদপত্র এবং মুক্তমনের ব্যক্তিদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য করা হয়েছে। আমরা এই আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই যে সাংবাদিকরা তারা যদি অনুসন্ধিৎসু কোনো একটি প্রতিবেদন করতে হয় তাহলে কিছু কাজ করতে হয় তাদেরকে গোপনীয়তা রক্ষা করে। এখানে করা যাবে না। এভাবে বাকশালী কায়দায় অতীতে যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছিল। আজকেও এই আইনের মাধ্যমে তা করা হচ্ছে। কারণ সরকার অলিখিত বাকশালের পথেই হাঁটছে।

এদিকে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জিয়া সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে সারাদেশের মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছে। উৎকণ্ঠা হতো না যদি শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে রায় ঘোষণা না করতেন। এরশাদ, রাঙ্গাও রায় ঘোষণা করেছেন। তারা মিষ্টির দোকানে ইতিমধ্যে অগ্রিম অর্ডারও দিয়ে রেখেছেন। তারা (আওয়ামী লীগ) বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে মোকাবেলা করবে বলেও অগ্রিম কথা বলছেন।

তিনি বলেন, কিসের মোকাবেলা? কিসের মোকাবেলা করবেন আপনারা? বিএনপি নেতাকর্মীরা কি আপনাদের আক্রমণ করতে গেছে? যখন আক্রমণ করতে যাবে তখন হয়তো প্রতিরোধের প্রশ্ন আসতে পারে। আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিশেষ দূত এরশাদ সাহেব খালেদা জিয়াকে জেলখানায় পাঠান। তার আরেক মন্ত্রী রাঙ্গা তারিখ ‘ই’ দিয়ে দিলেন। তাহলে বিচারিক আদালতে মোহাম্মাদ আখতারুজ্জামান যে চেয়ারে বসে আছেন তার কাজটা কী? তাহলে কি তিনি শেখ হাসিনার বার্তা জনগণের কাছে সংবাদপাঠক হিসেবে পাঠ করবেন?

গয়েশ্বর বলেন, আমরা কী এটাকে রায় হিসেবে মনে করবো। মোটেও না। কারণ এটা রায় হতে পারে না। কারণ রায় লেখার আগে যখন রায় ঘোষণা হয় সরকারের পক্ষ থেকে তাহলে আমরা বুঝে নেব এ সরকার আদালতকে ব্যবহার করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নির্যাতনের জন্য। সুতরাং হয়তো আমাদের আবার গাইতে হবে সেই ঊনসত্তরের গগণবিদারী বাণী ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা।

বিএনপির এই নেতা সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বেগম জিয়াকে জেল দেবেন, নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন, একটু ভাবেন। খালেদা জিয়া ছাড়া ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন করার সামর্থ্য আপনাদের আছে কি-না? ২০১৪ সালে তো নির্বাচন করতে পারেননি। কারণ আপনারা নির্বাচনে বিশ্বাস করেন না। দিন কিন্তু বেশি নেই। জনগণ যে ধাক্কা দেবে আপনারা জনগণের যে রোষানলে পড়বেন আমাদের বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে তখন আপনাদের পাশে থাকতে হবে। তা না হলে এ দেশে আপনাদের বেঁচে থাকার সুযোগ থাকবে না।

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাসানুল ইসলাম রাজার সভাপতিত্বে এবং এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশার সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, রফিক শিকদার প্রমুখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open