হবিগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা,টাকা দিয়ে মামলা রফাদফার চেষ্টা

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রেমিকাকে নিয়ে ফস্টিনস্টি করার পর মাদ্রাসা ছাত্রীকে বিয়ে না করায় স্বপ্না আক্তার (১৭) নামে ওই কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় প্রেমিক নয়ন আহমেদ শান্ত (১৮) কে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন স্বপ্না আক্তারের পিতা রিক্সা চালক মতলিব মিয়া। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইয়াছিনুল হক। এদিকে, ওই ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে লম্পট প্রেমিক শান্ত। তবে মামলা দায়েরের পর থেকে ওই লম্পটকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। এছাড়াও আত্মহত্যার ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে নিহত স্বপ্নার পিতাকে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মাধ্যমে রফাদফার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র। সূত্রটি জানায়, স্বপ্না আক্তারের দাফন কাপনের পর থেকেই বিষয়টি আপোষের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে রিক্সা চালক স্বপ্না আক্তারের পিতা মতলিব মিয়া তাতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি মিমাংসা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে সূত্রটি। অপরদিকে, মাদ্রাসার ছাত্রীকে নিয়ে রাতভর ফস্টিনষ্টি করার পরও বিয়ে না করা ও আত্মহত্যার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
তবে নিহতের পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে তার বাবার কর্মক্ষম জীবন। মেয়ে শোকে তাদের পরিবারে চলছে আর্তনাদ।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। স্বপ্না স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। জানা যায়, রিচি অগ্নিকোনা গ্রামের সাবেক মেম্বার স্বপন মিয়ার পুত্র লাখাই সড়কের রিচি এলাকার মার্চেল রিচি শো-রুমের ও পলাশ ইলেক্ট্রনিক্সের ম্যানেজার নয়ন আহমেদ শান্ত’র সাথে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সুবাদে পরিচয় হয় স্বপ্না আক্তারের। এক পর্যায়ে শান্ত তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে স্বপ্না প্রত্যাখান করে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন শান্ত এবং স্বপ্নাকে ওই শো রুমে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে স্থানীয় মেম্বার সাজু মিয়ার উপস্থিতিতে এক সালিশ হয়। সালিশে শান্তকে নগদ টাকা জরিমানাসহ স্বপ্নাকে বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে শান্তর অভিভাবকরা গত শুক্রবার দুইজনের বিয়ে দেয়া হবে বলে শান্তকে নিয়ে যায়। কিন্তু গত শুক্রবার বিয়ে না করায় ক্ষোভে স্বপ্না তার নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে তীরের সাথে দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

Sharing is caring!

Loading...
Open