সড়কে বন্যার ক্ষত,কুলাউড়া রাজনগর ও জুড়ীতে জনদুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি::                           মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রাজনগর ও জুড়ী উপজেলায় ৮৩ কিলোমিটার গ্রামীণ পাকা সড়ক গত বছরে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে বেশিরভাগ সড়কই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু এসব সড়ক সংস্কারে এখনো কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে জরুরি মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুই উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গত মার্চ মাসের শেষ দিকে দুই উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। এতে এসব এলাকার বাড়িঘর, গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ডুবে যায়। জুলাই মাসের শেষ দিকে পানি কমতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী এ বন্যায় দুই উপজেলার অধিকাংশ পাকা সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

সরেজমিনে কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ ভায়া ফুলেরতল বাজার, ব্রাহ্মণবাজার-শমশেরনগর আরএইচডি-গন্ডারগাঁও, নয়াবাজার-লংলা চা বাগান ভায়া লংলা খাস, পাইকপাড়া-সুলতানপুর, আছুরিঘাট-বেগমানপুর, কুলাউড়া-ফরিদপুর ভায়া সাদেকপুর, পুষাইনগর-নবাবগঞ্জ-আলমপুর, রসুলগঞ্জ বাজার-ভাটেরা ভায়া বেড়কুড়ি এবং পুষাইনগর-মদনগৌরী-রাখাল শাহ মাজার-নবাবগঞ্জ সড়কের বেশিরভাগ জায়গা ভেঙে গেছে।

সড়কে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জুড়ীর বাছিরপুর আরএইচডি-দাসেরবাজার, গোয়ালবাড়ী আরএইচডি-ফুলতলা, পশ্চিম জুড়ী ইউপি-জুড়ী বাজার, ভবানীগঞ্জ বাজার-পূর্ব জুড়ী ইউপি-দুর্গাপুর, রত্মা বাজার-সমাই বাজার, জুড়ী-ফুলতলা আরএইচডি-চম্পকলতা এবং আরএইচডি-পাতিলাসাঙ্গন-বটনিঘাট, রাজনগর উপজেলার রাজনগর ফতেহপুর সড়ক, মুন্সিবাজার-ফতেহপুর সড়কের বেহাল দশা।

ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করছে। কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ও ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুকুল কুমার দাস জানান, বন্যায় এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ভেঙে গেছে।

এলজিইডির কুলাউড়া প্রকৌশলী ইসতিয়াক হাসান জানান, তার এলাকার প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এতে ৫ কোটি ৩১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এলজিইডি রাজনগর প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উপজেলায় বন্যায় মোট ১৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি টাকা।

জুড়ী এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল মতিন জানান, ৩৬ কিলোমিটার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এলজিইডির মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক ও সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এ কাজে অর্থের জোগান দেয়া হবে। তবে প্রস্তাবটি এখনো অনুমোদন হয়নি।

Sharing is caring!

Loading...
Open