বিশ্বনাথে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:: বিশ্বনাথে স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন লুবনা বেগম (২৫) নামের দু’সন্তানের এক জননী। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নে জানাইয়া গ্রামে নিহতকে জবাই করে খুন করে তার স্বামী হেলাল মিয়া (৪০)। এরপরপরই খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নিয়ে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

হেলাল পালিয়ে যাবারপর গুরুতর আহত অবস্থায় লুবনা বেগমকে তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে যাবার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা লুবনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিজের পৈত্রিক বাড়ির পরিবর্তে কখনো মামার বাড়ি, কখনো শ্বশুর বাড়ি কিংবা কখনো অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন হেলাল মিয়া। বৃহস্পতিবার হেলাল মিয়া দুপুরে নিজের পৈত্রিক বাড়িতে আসেন। এরপর চাচাত ভাইয়ের ঘরে বসে স্ত্রীকে ফোন করে আসতে বলেন। স্বামীর ফোন পেয়ে মা-ভাইকে সাথে নিয়ে হেলালের চাচাত ভাইয়ের বাড়িতে আসেন লুবনা বেগম। এসময় লুবনার ভাই রাসেলের সাথে নিজের পুত্র আল-আমিনকে সাথে দিয়ে সিগারেট আনার জন্য বাজারে পাঠান হেলাল। আর অন্যান্য সময়ের মতো স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে চাচাতো ভাইয়ের গরু ঘরে যান হেলাল। সেখানে হাত বেঁধে লুবনার গলা কেটে ধারালো অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হেলাল।

এদিকে, দীর্ঘ সময় পর চাচাতো ভাইয়ের গরু ঘর থেকে হেলাল ও লুবনা বসত ঘরে ফিরে না আসায় তাদেরকে ডাকতে যান আত্মীয়রা। সেখানে গিয়ে তারা গলা কাটা অবস্থায় লুবনার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর হেলালের আত্মীয়-স্বজনরা লুবনাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ জানান, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হওয়া লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। কোন কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে এ ব্যাপারে তিনি ও তার পুলিশ গুরুত্বের সাথে দেখছে।

এদিকে লুবনার ভাই কামরুল হুদার অভিযোগ, বিনা কারণে তার বোনকে বাড়ি থেকে খবর দিয়ে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন তার ভগ্নীপতি। শুধু তাই নয় হত্যার পর হেলাল তাঁর বোনের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে নগদ ৭/৮ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জানাইয়া গ্রামের মরহুম জহুর আলীর পুত্র হেলাল মিয়ার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দেওকলস ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের ওয়াহিদ আলীর মেয়ে লুবনা বেগম। হেলাল-লুবনার দাম্পত্য জীবনে আল-আমিন নামে ৯ বছরের এক পুত্র সন্তান ও নাজিফা বেগম নামের সাড়ে ৩ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open