মাধবপুরে এক হত্যার ঘটনায় দু’বার মামলা, আতঙ্কে নিরীহরা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সোহেল হত্যার ঘটনায় পৃথক পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় মা ও স্ত্রী আলাদা আলাদা ভাবে মামলা দায়ের করেছেন। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আইনি জটিলতা। এদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক নিরীহ ও সাধারণ মানুষ গা ঢাকা দিয়েছে।

এলাকার পুরুষদের মধ্যে এখন গ্রেপ্তার আতংক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে পুলিশ সোহেল হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে ৩জনকে গ্রেপ্তারও করেছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বহরা ইউনিয়নের সুন্দাদিল গ্রামের এলম খার ছেলে বিদেশ ফেরত সোহেল মিয়া জীবিকার তাগিদে মোটর সাইকেলে করে যাত্রী পরিবহন করত। কিন্তু গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে সোহেল যাত্রী পরিবহনের জন্য মোটর সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলে আর ফেরে আসেনি। পরে গত ১৯ ডিসেম্বর সোহেল নিখোঁজের ঘটনায় মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয় (ডায়রি নং-৯৪২)। ওই দিন রাত ১১টার দিকে থানা পুলিশ উপজেলার গোবিন্দপুর আখালিয়া এলাকার একটি ধানী জমি থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী মোছা. লাভলী আক্তার বাদী হয়ে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ে করেন।

অপরদিকে একই ঘটনায় সোহেলের মা মোছা. হেনা আক্তার বাদী হয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৬) এর আদালতে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ টি আমলে নিয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে এফআইআর করার নির্দেশ প্রদান করেন।

আদালতের নির্দেশে মাধবপুর থানা গত ১৮ জানুয়ারি একটি মামলা রেকর্ড করেন। মামলা নং -২৭।এ নিয়ে একই ঘটনায় দুটি মামলা রুজু হল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মমিনুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। একটি মামলা চলমান থাকবে। অন্যটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট সুফিয়া আক্তার হেলেন জানান, একই ঘটনায় দুটি মামলা চলতে পারে না। পুলিশ একটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে। না হলে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হবে ।

Sharing is caring!

Loading...
Open