আগামীকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপন

সুরমা টাইমস ডেস্ক::   বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আসামি পক্ষের পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বুধবার (২৪শে জানুয়ারি) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলার অন্যতম আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে পঞ্চম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী আহসান উল্লাহ। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে আহসান উল্লাহ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। কিন্তু তার পক্ষে আজ যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিার দিন ধার্য করেন।

এ দিন বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয় ১৬ই জানুয়ারি। এরপর যুক্তি শেষ না হওয়ায় ১৭, ১৮ ও ২৩শে জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। এর আগে গত ১৯শে ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

এ মামলায় গত ২০শে ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এরপর ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮শে ডিসেম্বর এবং ৩, ৪, ১০ ,১১ ও ১৬ই জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ই আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট তেজগাঁও থানায় আরও একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটি এর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

Sharing is caring!

Loading...
Open