ঢাবির ‘ভিসি উদ্ধার বাহিনী’……..

সুরমা টাইমস ডেস্ক::          ঘটনাটি ২০০৫ সালের ২৮ মে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শাম্মী আখতার হ্যাপি রাজধানীর শাহবাগে বাস চাপায় নিহত হন। এ ঘটনায় মূহুর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে শাহবাগ অবরোধ করে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর বেদম লাঠিচার্জ করলে তারা চারুকলায় আশ্রয় নেয়। এসময় পুলিশ চারুকলায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় দশ নারী শিক্ষার্থী ছাড়াও বহু সাংবাদিক আহত হন। নারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণ হলো, হ্যাপি ছিলেন রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী। সে কারণে আন্দোলনে তার হল থেকে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রক্টর একেএ ফিরোজ আহমেদের পদত্যাগের দাবি করে আন্দোলনকারীরা। ঘটনার চূড়ান্ত দিন ছিলো ২৯শে মে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও তৎকালীন ভিসি এসএমএ ফয়েজ চারুকলা পরিদর্শনে যান। সকাল ১০টায় চারুকলায় পৌঁছায় ভিসি ও প্রক্টরের দলটি। এ সময় আন্দোলনকারীরা খবর পেয়ে মিছিলসহকারে চারুকলায় গিয়ে ভিসি ও প্রক্টরকে চারু কলার দোতালায় আটক করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিলো, প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর পদত্যাগে রাজি না হওয়ায় ভিসি ও প্রক্টরকে শিক্ষার্থীরা আটকে রাখেন।

সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে তাকে ও ভিসিকে চারুকলায় আটকে রাখেন। এ সময় চারুকলার দোতলায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছিলেন। এভাবে তিন ঘণ্টা আটক থাকার পর ভিসি এসএমএ ফয়েজ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন দিয়ে তাকে রক্ষা করার আবেদন জানান। ভিসির ফোন পেয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাদের দায়িত্ব দেন ভিসি ও প্রক্টরকে রক্ষা করার জন্য।

দুপুর ১টার দিকে ভিসি এসএমএ ফয়েজ ও প্রক্টর একেএ ফিরোজ আহমেদকে ছাড়িয়ে নিতে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি হাসান মামুন ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে শ খানেক ক্যাডার চারুকলায় প্রবেশ করে। শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে চাইলে নির্দয়ভাবে সেদিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ছাত্রদলের নেতারা। এ সময় অন্তত ১০০ জন শিক্ষাথী আহত হন বেধড়ক পিটুনিতে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে ভিসি এসএমএ ফয়েজ ও প্রক্টর একেএ ফিরোজকে সেদিন ছাড়িয়ে নিয়ে যায় ছাত্রদলের নেতারা।

সেদিন আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীরাও রেহাই পায়নি ছাত্রদলের ক্যাডারদের হাতে। ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে নারীদের শ্লীলতহানিরও। এ ঘটনায় তৎকালীন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসান মামুন ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বিরুদ্ধে হামলার তথ্য প্রমাণ থাকলেও সেসব তৎকালীন বিএনপি সরকার আমলে নেয়নি।

শুধু তাই নয়—যারা আন্দোলনকারি নারীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলো তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে দলীয় লাঠিয়াল পদে ঠিক ঠাক দায়িত্ব পালনের পুরস্কার হিসেবে চারুকলাতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে উদ্ধার করার জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ঝাপিয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে ভিসিকে উদ্ধার করে নিয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে শয়ের ওপর শিক্ষার্থী। বোঝা যাচ্ছে এক যুগ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আলাদাভাবে কোন শিক্ষা দেয় না। বারো বছর আগেও এ ঘটনা এই শিক্ষাই দেয় যে, সরকারি দলের মাস্তানি কমেনি, বেড়েছি। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসিকে রক্ষার দায়িত্বের বোঝাও সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের কাধ থেকে নামেনি। আজ থেকে ১২ বছর আগে এ দায়িত্ব ছিলো ছাত্রদলের ওপর। আজ সেই দায়িত্বে রয়েছে ছাত্রলীগ।

Sharing is caring!

Loading...
Open