জৈন্তাপুর সীমান্তের দেড়শত গজ হতে পাথর উত্তোলন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর পাথর কোয়ারী এলাকার সীমান্তবর্তী আর্ন্তজাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক দেড়শত (১৫০) গজের মধ্যে পাথর উত্তোলন বন্ধ করেছে বিজিবি, তবে শ্রীপুর পাথর কোয়ারীর সরকারি ইজারাকৃত ২২ একর ভুমিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হয়নি।
সরেজমিনে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী এলাকা ঘুরে দেখা যায় পাথর কোয়ারীর আর্ন্তজাতিক সীমান্ত প্রধান পিলার ১২৮০ ও তৎসংলগ্ন সব কয়েকটি এস-পিলার হতে দেশের আভ্যন্তরিন নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনসাধারণনের জান-মাল রক্ষার জন্য ১৫০গজের মধ্যে হতে সকল প্রকার পাথর আহরন ও উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্প। শ্রীপুর পাথর কোয়ারীর সরকারি ইজারাকৃত ২২ একর ভূমি হতে পাথর উত্তোলনে বিজিবির কোন বাঁধা নেই, যাহা সম্পূর্ন ভাবে অবমুক্ত রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি শ্রীপুর কোয়ারীর পূর্বেকার সীমান্ত সংলগ্ন বেশ কয়েকটি পাথর আহরণের গর্ত সীমান্তের কাছা-কাছি থাকায় সদ্য শ্রীপুর ক্যাম্পে যোগদানকারী ক্যাম্প কমান্ডার পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিলে শ্রীপুর কোয়ারীর ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাঁধে কোয়ারীর সরকারি ইজারাকৃত ভূমি হতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ফলে গত ৫দিন সরকারি ইজারাকৃত ভুমি হতেও পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাদের পুজি উঠিয়ে নিলেও প্রতিদিন খেটে খাওয়া শ্রমিকরা পড়েছে বিপাকে। শ্রমিকদের পক্ষে অভিযোগ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে হাজার হাজার শ্রমিককে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।
এবিষয়ে জানতে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল আহাদ প্রতিবেদককে জানান- শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃক সীমান্ত পিলার হতে ২২০গজ পাথর কোয়ারীর মধ্যে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে শ্রীপুর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। আমরা কোম্পানী কমান্ডরের সাথে দেখা করেছি তিনি আশ্বস্থ করেছেন ২/১দিনের মধ্যে যতটুকু ছাড় দেওয়া যায় তা বিবেচনা করা হবে।
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার বলেন- বিষয়টি আমাদের একার নয়। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করে থাকি। এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে ১৫০গজ নয় প্রয়োজনে ৩শত গজ দুরত্বে যে কোন ধরনের স্থাপনা, খনন কিংবা পাথর-বালু আহরন, উত্তোলন বন্ধ রাখতে পারি।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম প্রতিবেদককে বলেন- শ্রীপুর পাথর কোয়ারীর সরকারি ইজারাকৃত ২২ একর ভূমি পাথর উত্তোলন আহরনে যন্ত্রদানব পেলোডার এস্কেভেটার বোমা মেশিন ব্যতিত বিধিমোতাবেক ম্যানুয়েল পদ্ধতীতে উত্তোলনে কোন বাঁধা নেই। কোয়ারীর ইজারাদারগণ রয়েল্ট্রি আদায়েও আমাদের কোন আপত্তি নেই। বিজিবির বিষয়টি একান্ত তাদের নিজস্ব ব্যাপার এখানে আইন শৃঙ্খলার বিষয় রয়েছে। কোয়ারীটি দুই দেশের সীমান্তবর্তী হওয়াতে বিজিবিই দেখবাল করবে বিষয়টি। আমাদের উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করবে না।

Sharing is caring!

Loading...
Open