ফের শাহ আরফিন টিলায় পাথর শ্রমিক নিহত,পুলিশ বলছে গাড়ি চাপা!

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলায় আবারো এক পাথর শ্রমিক নিহত হয়েছে। সোমবার ভোর ৬টায় পাথর কোয়ারীতে তার মৃত্যু হয়। নিহত পাথর শ্রমিকের নাম ফারুক মিয়া (২৬)। সে ছাতক থানার দারোগাখালি গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে।

তবে পাথর শ্রমিক ফারুকের মৃত্যু নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোকজন পাথর ধ্বসে নিহত হওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করলেও পুলিশ বলছে গাড়ি চাপায় নিহত হয়েছেন।

জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলায় আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল হান্নানের গর্তে পাথর শ্রমিকরা রাতের অন্ধকারে পাথর উত্তোলন করছিলো। ভোরে টিলা ধ্বসে পাথর শ্রমিক ফারুকের মৃত্যু হয়। পরে গর্তের মালিকরা নিহতের লাশ গায়েব করার জন্যে নানা চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা লাশটি নিহত ফারুকের বাড়িতে প্রেরনের চেষ্টা চালায়।

খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় চনবাড়ি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

গর্তের মালিক আনোয়ার হোসেন স্থানীয় নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত বশির মিয়ার ছেলে ও আব্দুল হান্নান চিকাডর নারায়নপুর গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে।

ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, পাথরের গর্তগুলোর ফাঁড়ি পথে ট্রাক্টর চাপায় ফারুক নিহত হয়। লাশটি ছাতকে নিয়ে যেতে চাইলে খবর পেয়ে পুলিশ ছনবাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে। এখনো থানায় কোন মামলা হয়নি। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের ভাই বাদি হয়ে মামলা করবেন বলে জানান ওসি শফিকুর রহমান খান।
এদিকে অভিযোগে জানা গেছে, শাহ আরফিন টিলা ধ্বংসের নেপথ্যে আনোয়ার হোসেন এবং আব্দুল হান্নান ও তার ভাই আনোয়ার হোসেন আনাই, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অবাধে পাথর লুটপাট ও চাঁদাবাজি করে আসছে। অসহায় মানুষের জায়গা দখল করে পাথর কোয়ারীর মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে হয়ে গেছেন কোটিপতি। এলাকার লোকজন ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন না। প্রতিবাদ করলে মামলা’সহ নানা ভাবে হয়রানী করেন তারা।
উল্লেখ্য, শাহ আরফিন টিলায় কয়েক দিন পর পাথর শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে।

Sharing is caring!

Loading...
Open