কি ঘটেছিল নগরীর ‘হোটেল মেহেরপুরে’?

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট নগরীর ব্যস্ততম সোবহানীঘাট পয়েন্টের ‘হোটেল মেহেরপুর’ থেকে উদ্ধার হওয়া ‘প্রেমিক-প্রেমিকার’ লাশ এখনো সিলেট ওসোমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আজ সোমবার পোস্টমর্টেম শেষে লাশ দুটি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট কোতয়ালী থানার এস আই খোকন দাস জানান, ‘আমরা লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। পোস্টমর্টেমের পরে লাশগুলো আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মেয়েটির আত্মীয় আমাদের সাথে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। তবে ছেলেটির আত্মীয়দের সাথে এখনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরো জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হিন্দু এই তরুণ-তরুণী একে অপরকে ভালোবাসতেন। তরুণীর বিয়ে অন্যত্র ঠিক করেছেন তাঁর পরিবারের লোকজন। বিষয়টি তাঁদের প্রেমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। সেটি তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। পরিবারকে বুঝিয়ে-শুনিয়েও কাজ হচ্ছিলো না। সেজন্যই দু’জন একসাথে জঘন্য পাপের পথে পা বাড়ালেন। তবে হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২০৬ নাম্বার কক্ষটিতে তরুণের লাশ ঝুলানো ছিলো; আর তরুণীর লাশ বিছানার মধ্যে।’

হতভাগ্য তরুণী হচ্ছেন রুমী পাল; তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট উজানীনগর গ্রামের মিলন পালের মেয়ে। আর তরুণ মিন্টু দেব একই উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মতিলাল দেবের ছেলে।হোটেলে রেজিস্টার খাতা জব্দ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি হোটেলে থাকা দু’জন লোককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানা পুলিশ ধারণা করছে- মিন্টু দেব প্রথমে রুমী পালকে হত্যা করেছেন। পরে তিনি রুমীর ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে অাত্মহত্যা করেছেন। এ দিকে সিলেটে প্রেমিক জুটির আত্নহত্যার রহস্য খুজছে পুলিশ ।

বিষয়টি এখনো খোলাসা হয়নি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ‘আজ পোস্টমর্টেম পরে বোঝা যাবে হোটেল মেহেরপুরে আসলে কি ঘটেছিলো?’ এমনটিই বলছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open